ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২২ | ০০:৫০

সরিষাবাড়ীতে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে 'গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র' নামের একটি এনজিও। গত মঙ্গলবার রাতে পোঘলদিগা ইউনিয়নের তারাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, তারাকান্দি এলাকায় দুই মাস আগে তোজাম্মেল হক টিটু মিলিটারির মার্কেট ভাড়া নেন গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামের এনজিও কর্মকর্তারা। তাঁদের পরিচিতি- মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রাম (এমএফপি)। এমআরএ সনদ নম্বর ০০২৯২/০০৬৭৯/২০০০/১৯৯০। প্রধান কার্যালয় :হাজী মিজান আলী ম্যানসন, বাণিজ্যিক এলাকা, মতিঝিল ঢাকা-১০০০। সরিষাবাড়ীতে জমকালো অফিস তৈরি করে তাঁরা। এরপর আটটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে নারীদের এনজিও সদস্য করে এবং একেকটি পাড়া-মহল্লায় কেন্দ্র গঠন করে।

প্রতিটি কেন্দ্রে নারী সদস্য ভর্তির জন্য ২৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। এরপর মোটা অঙ্কের ঋণ দেওয়ার নামে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে সঞ্চয় হিসেবে হাতিয়ে নেন ওই এনজিওর কর্মকর্তারা। এভাবে কয়েক হাজার লোকের কাছ থেকে কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে এনজিও কর্মর্কতারা সদস্যদের গত মঙ্গলবার ঋণ দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন। এ ঋণ নেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা দুই শতাধিক নারী-পুরুষ এনজিও কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হয়। তবে অফিস কক্ষে তালা থাকায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালান সদস্যরা। যোগাযোগ করতে না পারায় বুঝতে পারেন, এনজিওর লোকেরা (কর্মকর্তারা) অফিস তালা দিয়ে পালিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন, লিলি বেগম, আব্দুস সালাম, মোছা. কাজল, মনোয়ারা বেগম, রিক্তা বেগম ও নাজমা বেগম জানান, দিনমজুরি করে তাঁদের সংসার চলে। ঋণের আশায় কষ্ট করে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে এনজিওর কর্মকর্তাদের দিয়েছেন একেকজন। ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম কেন্দ্রের সদস্যদের সভানেত্রী রূপালী বেগম বলেন, 'গত মঙ্গলবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সদস্যদের নিয়ে এনজিও অফিসে যাই। জানতে পারি পালিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঋণ পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে সঞ্চয় করেছি। এখন কোথায় থেকে ধারের টাকা পরিশোধ করব?'

সরিষাবাড়ীর ইউএনও উপমা ফারিসা বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×