ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

মানববন্ধনে শিশু আয়াতের বাবা

আবীর আমার পুরো পরিবারকেই খুন করেছে

আবীর আমার পুরো পরিবারকেই খুন করেছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৯:২১ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৯:২৭

চট্টগ্রামে নৃশংস হত্যার শিকার শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতের বাবা সোহেল রানা খুনি আবীর আলীর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আয়াত এখন শুধু আমার মেয়ে নয়, সে এখন সারাদেশের মেয়ে। আবীর শুধু আমার মেয়েকে কষ্ট দিয়ে খুন করেনি, সে আমার পুরো পরিবারকেই খুন করে ফেলেছে। খুনের ঘটনায় শুধু আবীর একা জড়িত নয়। তার পেছনে গ্যাং আছে। তাদেরও চিহ্নিত করে বের করা হোক।'

শুক্রবার নগরের জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ কথা বলেন হতভাগ্য সোহেল রানা। তিনি বলেন, 'আবীরের সহযোগীরা এখন হুমকি দিচ্ছে আয়াত হত্যা নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে আমাদের ১২ টুকরো করা হবে। তবু আমি আমার মেয়ের খুনির ফাঁসি চাই।'
আয়াতের খুনিদের বিচার দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে আয়াতের স্বজনের পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু অংশ নেন। তাঁরা খুনির ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় তাঁদের হাতে বিচারের দাবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছিল। তাতে লেখা ছিল- 'ডিজিটাল বাংলাদেশ নয়, নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যামুক্ত বাংলাদেশ চাই'। 'ফোর জি স্পিড নেটওয়ার্ক নয়, ফোর জি স্পিড বিচার চাই'।
আয়াতের দাদা মনজুর হোসেন সমকালকে বলেন, 'একটি ইন্টারনেট নাম্বার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, আয়াতকে তাদের নির্দেশে খুন করে ছয় টুকরো করা হয়েছে। আমাদের ১২ টুকরো করা হবে। আমরা বিষয়টি পিবিআইকে জানিয়েছি। তাদের সব তথ্য দিয়েছি। আমরা নিরাপত্তা চাই।'
এ প্রসঙ্গে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ দে সমকালকে বলেন, তাঁরা কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তথ্য শেয়ার করেছেন। তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে স্থানীয় থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। তখন যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।' আয়াত খুনের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।'
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবীরের মা-বাবাকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার আবীরের বোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আয়াতের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আবীরের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্ত কর্মকর্তা মনোজ দে। তবে এক দিন আগে বৃহস্পতিবার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, এখনও পর্যন্ত আয়াত খুনের সঙ্গে আবীর ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আবীরের রিমান্ড চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৫ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকার ওয়াজ মুন্সীর নতুন বাড়ির বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে আয়াতকে হত্যা করে আবীর। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯ বছর বয়সী আবীর মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ছয় টুকরো করে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার খাল থেকে আয়াতের দুই পা ও খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতেই জানাজা শেষে খণ্ডিত অংশগুলো পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তবে আয়াতের মরদেহের আরও তিনটি খণ্ড এখনও মেলেনি। এগুলোর খোঁজে শুক্রবার সকালে নগরের ইপিজেড আকমল আলী মৎস্যজীবী ঘাট এলাকায় সাগর উপকূলে তল্লাশি চালিয়েছেন পিবিআই সদস্যরা। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান সমকালকে বলেন, 'এখনও পাঁচটি আলামত পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে আয়াতের শরীরের দুই হাত ও শরীরের ঊর্ধ্বাংশ এবং মাথার হিজাব ও পরনের জামার খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত আছে।'

আরও পড়ুন

×