ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ব্র‏হ্মপুত্রতীরে রংতুলির উৎসব

ব্র‏হ্মপুত্রতীরে রংতুলির উৎসব

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:০৬ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:০৬

কুয়াশায় ঢাকা পৌষের দিন। ব্রহ্মপুত্রের তীরে বসেছে অন্যরকম এক মিলনমেলা। নদের পাড়ে বসে ছবি আঁকছেন শিশু শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা। তারা ব্রহ্মপুত্র পাড়ের সৌন্দর্য তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে তুলে আনছেন। এ নদকে শিক্ষক মনে করতেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তাই পুরো আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় তাঁকেই।

আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশন 'ঐতিহ্যের পরশে শিল্পিত আগামী' স্লোগানে চতুর্থ চারুকলা উৎসব-২০২২ এর আয়োজন করেছে এবার ময়মনসিংহে। শুক্রবার এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী রোববার ছবির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এ আসরের পর্দা নামবে।

ময়মনসিংহ নগরীর বিজিবি পার্কে আয়োজিত এ চারুকলা উৎসবে ছবি এঁকেছেন বরেণ্য শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদও। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ২০১৬ সাল থেকে এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এবার শিল্পাচার্য জয়নুলের স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহে শুরু হয় ছবি আঁকা উৎসব।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের উৎসবে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ও তরুণ শতাধিক শিল্পী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের সান্নিধ্য ও সহযোগিতায় ময়মনসিংহের সাতটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক আর্ট ক্যাম্প, কনটেম্পরারি আর্ট প্রজেক্ট, শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, শিল্পবিষয়ক মুক্ত আলোচনা, আর্টিস্ট টক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোক ও কারুশিল্প মেলা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন লোক সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা রয়েছে এ আয়োজনে। এতে দর্শনার্থীরাও মুগ্ধ হচ্ছেন।

দর্শনার্থী রাফিউল ইসলাম ও স্নেহা জানান, বাঙালির ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ দিয়ে সাজানো আয়োজন মুগ্ধ হওয়ার মতো। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে নির্মিত শিল্পকর্ম চোখ জুড়ায়।

নগরীর প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী আলভী হাসান ও মাহিন হাসান, জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকন হাসান, বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেহনুমা তাবাসসুম তাহা বলেন, আয়োজনটির মাধ্যমে অনেক গুণী শিল্পীকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হচ্ছে। শিল্পীদের কাজ দেখে তারা অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। তাদেরও ছবি আঁকাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পুরো বিজিবি পার্ক বর্ণিল রূপ ধারণ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমানের সভাপতিত্বে আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক শিল্প বিনিময়বিষয়ক পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিশিষ্ট শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মাহমুদুর রহমান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিএমডি এটিএম তাহমিদুজ্জামান, ভারতীয় শিল্পী বিদ্যাসাগর উপধ্যায়, শিল্পী জামাল আহমেদ, শিল্পী মাইনুদ্দিন খালেদ, ফসোয়া ব্রজো, আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ।

শিল্পাচার্যকে উৎসর্গ করে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে আয়োজনে শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে আজীবন সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। শিল্পী শাহাবুদ্দিন বলেন, 'আর্ট কলেজে আমাকে জয়নুল আবেদিনের চামচা ডাকতো অনেকে। ইচ্ছা ছিল জয়নুল আবেদিন হবো। আমরা শিল্পে অনেক পিছিয়ে গেয়েছিলাম। এখন অনেক ভালো করার চেষ্টা হচ্ছে।'

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, শিল্পাচার্যকে উৎসর্গ করে তাঁর প্রিয় ব্র‏হ্মপুত্রের পাড়ে এ আয়োজনটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন শিল্পী তৈরি হবে, সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পী মাইনুদ্দিন খালেদ বলেন, নদীকে 'মাস্টারমশাই' বলেছিলেন জয়নুল আবেদিন। রুচির দীনতা দূর করার চেষ্টা করেছিলেন দুর্ভিক্ষের ছবির মধ্য দিয়ে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন বলেন, শিশুরা ভালো মনের মানুষ হও। তবেই ভালো ছবি আঁকতে পারবে।

আর্ট বাংলা ফেস্টের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম খান জানান, শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন চলবে প্রতিবছর। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সংস্কৃতির বিকাশে করা হবে আয়োজন।

আরও পড়ুন

×