ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

কক্সবাজার-কুয়াকাটায় লাখো পর্যটক

খালি নেই হোটেল মোটেল, সবখানেই গলাকাটা দাম

খালি নেই হোটেল মোটেল, সবখানেই গলাকাটা দাম

বড়দিনসহ তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কুয়াকাটায়। শুক্রবার সূর্যাস্ত দেখতে সমুদ্রতীরে হাজারো মানুষ-সমকাল

কক্সবাজার ও পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৩:১৩

দু'দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে বড়দিনের ছুটি। তিন দিনের ছুটি কাটাতে কক্সবাজার আর কুয়াকাটায় সমুদ্র দর্শনে ছুটে গেছেন লাখ লাখ পর্যটক। কক্সবাজারে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত খালি নেই কোনো হোটেল-মোটেল। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা।

অপরদিকে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। তবে আবাসিক ও খাবার হোটেলে গলাকাটা দাম নেওয়ায় বিপাকে পড়ছেন অনেকেই।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ডলফিন মোড় ঘিরে তীব্র যানজট ছিল। প্রশস্ত চার লেনের সড়কজুড়ে দূরপাল্লার বাসসহ নানা যানবাহন। এগিয়ে যেতে দেখা যায় একে একে বাসের সারি। এসব বাস থেকে ব্যাগ হাতে নামছেন মানুষ। সবারই লক্ষ্য সমুদ্র দর্শন। প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়া।

তবে আগে থেকে হোটেল কক্ষ বুকিং না দিয়ে অনেকে পড়েছেন বিপাকে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ছয় সদস্যের একটি পরিবারের সঙ্গে কথা হলো। সকাল ৮টায় কক্সবাজার শহরে পৌঁছেও দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো হোটেলে কক্ষ পায়নি তারা।

কক্সবাজারে পরিবার নিয়ে এসেছেন ব্যাংকার আরিফ হোসেন। তিনি জানান, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ও রোববার বড়দিন। এর মধ্যে বাচ্চাদের পরীক্ষাও শেষ। টানা তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণে এসে দুই সন্তান, স্ত্রী ও মা-বাবাকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। কলাতলীর শতাধিক হোটেলে ঘুরেও কক্ষ পাননি।

শুধু আরিফ হোসেন নন, এ রকম আরও অনেকেই শুক্রবার সকাল থেকে হোটেল থেকে হোটেলে ছুটছেন; কিন্তু কক্ষ নেই। কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল মালিকরা বলেন, শনিবার পর্যন্ত তিন দিন শহরের হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস-রিসোর্টের কোনো কক্ষ খালি নেই। সোম ও মঙ্গলবার দু'দিন ১০ শতাংশ কক্ষ খালি থাকলেও এরপর থার্টিফার্স্ট নাইট (৩১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত শতভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ১০ দিনে সৈকতে অন্তত ৭ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে।

হোটেল বে-মেরিনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। আগে থেকে যোগাযোগ করে হোটেল কক্ষ বুকিংয়ের পরামর্শ তাঁর।

কক্সবাজারে হোটেলে কক্ষ আছে ৮৪ হাজারের বেশি। ধারণক্ষমতা ১ লাখ ২৮ হাজার। গাদাগাদি করে থাকলে সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার পর্যটক থাকা যায়। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর কক্ষ ভাড়ার বিপরীতে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ৯৮ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

এদিকে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা। তবে সব আনন্দ-উপভোগ ম্লান করে দিচ্ছে আবাসিক ও খাবার হোটেল মালিকরা। পর্যটকদের বাড়তি চাপ দেখে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

পর্যটকদের কেউ কেউ ঘুরছেন লেম্বুর চর, গঙ্গামতি চর, ফাতরার বন, কাঁকড়ার চর ও রাখাইন পল্লি, রাখাইন মার্কেটসহ কুয়াকাটার আকর্ষণীয় স্পটগুলো। কেউ কেউ উপভোগ করছেন সাগর নীলরাশি ও প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য।

খুলনা থেকে আসা পর্যটক তপন সাহা বলেন, স্ত্রীসহ তিন বন্ধু এসেছেন। পরিবেশ ভালোই লাগছে। তবে থাকা-খাওয়ায় অনেক খরচ হচ্ছে। ঢাকার ডেমরা থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, আবাসিক ও খাবার হোটেলে গলাকাটা দাম নেওয়া হলেও প্রশাসনের নজর নেই।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, হোটেল-মোটেলের কক্ষ খালি নেই। সৈকত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা সব হোটেল-মোটেলের কাউন্টারে টানানো আছে। এখানে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।

কুয়াকাটা জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক জানান, হোটেল-মোটেলে চার গুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা খুবই অন্যায়।

আরও পড়ুন

×