ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

বরিশাল আওয়ামী লীগ

জেলা সম্মেলন হয় না ১০ বছর নগরে নেই পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি

জেলা সম্মেলন হয় না ১০ বছর নগরে নেই পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৩:২৯

২০১২ সালে আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলনের দু'দিন আগে ২৭ ডিসেম্বর বরিশাল জেলা শাখার সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদ শেষে ২০১৬ সালে ২০তম এবং ২০১৯ সালে ২১তম সম্মেলন করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ২২তম সম্মেলন হবে আজ শনিবার। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র মেনে ধারাবাহিকভাবে সম্মেলন হলেও ব্যতিক্রম বরিশাল জেলায়। সেখানে ১০ বছর আগের কমিটি দিয়েই চলছে দলীয় কার্যক্রম।

এদিকে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তার আগে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে সম্মেলন করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়েই তিন বছরের মেয়াদ অতিক্রম করেছে ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি। বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বর্তমানে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তাঁর বড় ছেলে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, জেলায় সভাপতি এবং মহানগরে সাধারণ সম্পাদক যেভাবে চাচ্ছেন, সেভাবেই চলে দলের কর্মকাণ্ড। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাতাব হোসেন সুরুজ বলেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের অভিভাবক। তিনি যা কিছু করেন, সবই দলের স্বার্থে এবং দল সুসংগঠিত করার জন্য।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মেলন শেষে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে তালুকদার মো. ইউনুসের নাম ঘোষণা করা হয়। সাড়ে তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১১ জুন ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। কমিটিতে হাসানাত পরিবারের আরও চারজন পদ পান। তাঁরা হলেন- সহসভাপতি হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী শাহনারা আবদুল্লাহ (২০২০ সালে মারা যান), ত্রাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে শ্যালক কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মেজো ছেলে সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ ও চাচাতো ভাই রইস সেরনিয়াবাত। ১০ বছরে কমিটির কয়েকজন পদধারী মারা গেছেন। কেউ কেউ রাজনীতিতে নিষ্ফ্ক্রিয় হয়েছেন।

সম্মেলন না হওয়া প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস সমকালকে বলেন, ২০১৬ সালে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর তার মেয়াদ ধরা হয় তিন বছর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মহানগর সম্মেলনের পর জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিছুদিন পরই করোনা মহামারি দেখা দিলে সম্মেলন আর হয়নি। জেলার ৯টি উপজেলার সম্মেলন শেষ হলেও এখনও সদর উপজেলার সম্মেলন হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর জেলা সম্মেলন করার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সম্মেলন শেষে মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে একেএম জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক পদে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়। এক বছর পর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ৭৫ সদস্যের পূর্ণ মহানগর কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ কমিটির নির্বাহী সদস্য পদ পেয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহর স্ত্রী লিপি আবদুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনোই রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নেননি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, ২০২১ সালে মহানগরের পূর্ণ কমিটি অনুমোদন হওয়ায় এ কমিটির মেয়াদ আরও এক বছর আছে। ৩০টি ওয়ার্ড কমিটিতে তিন বছর ধরে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকা প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসাইন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। অচিরেই পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি হবে।

তবে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনের সংসদ সদস্য। এ কারণে দুটি এলাকাতেই তাঁর বলয়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। জাহিদ ফারুক জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তবে হাসানাত পরিবারের সঙ্গে তাঁর অঘোষিত দূরত্ব রয়েছে। তাঁর অনুসারীরা পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও প্রতিমন্ত্রী অনুসারীরা কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে নগরে শোভাযাত্রা করেছেন। ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, নগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর পদধারীদের অনেকে প্রতিমন্ত্রী বলয়ে ভিড়তে পারেন- এমন শঙ্কায় ওয়ার্ড কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে না। সদর উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীরা শক্তিশালী হওয়ায় সেখানেও সম্মেলন নিয়ে একই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু বলেন, প্রতিমন্ত্রী দলের কেউ নন, তিনি সরকারের। জাহিদ ফারুককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একজন সহসভাপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিছিল করাতে পারেন কিনা তা জেলা আওয়ামী লীগ ভালো বলতে পারবে।

আরও পড়ুন

×