ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

সুনামগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত আট সরকারি কলেজ

সুনামগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত আট সরকারি কলেজ

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:৫১

সুনামগঞ্জের ১০ উপজেলার ১০টি কলেজ চার বছর আগে সরকারীকরণ হলেও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা কেবল ধর্মপাশা ও শাল্লা কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও এর সুবিধা পাচ্ছেন না। এদিকে ধর্মপাশা ও শাল্লা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা কলেজগুলোর শিক্ষকরা এখনও সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হননি।

জেলার জামালগঞ্জ কলেজের অনার্সপড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর বরাতে জানা যায়, সেখানে কলেজের মাসিক টিউশন ফি ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে জেলার জামালগঞ্জ কলেজ, তাহিরপুরের বাদাঘাট কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুর দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ, শান্তিগঞ্জের পাগলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা, ধর্মপাশা ও দোয়ারা কলেজ ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে টিউশন ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মপাশা ও শাল্লা ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাড় পাননি।

জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৭০০। তবে এই কলেজে আগের মতোই প্রতি মাসে একাদশ শ্রেণিতে ২০০, ডিগ্রিতে ২৫০ এবং অনার্সের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

শাল্লা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ জানান, জাতীয়করণের প্রথম দিকে তাঁরাও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মেই টিউশন ফি নিয়েছেন। গত বছর থেকে সরকারি নিয়মে টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, শিক্ষকরা যেহেতু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন, সেহেতু টিউশন ফি বেসরকারি নিয়মে নেওয়া ঠিক হবে না ভেবেই তাঁরা টিউশন ফি কমিয়েছেন।

ধর্মপাশা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, 'কলেজ যেহেতু জাতীয়করণ হয়েছে, শিক্ষকরাও সেই অনুযায়ী বকেয়া বেতন পাবেন। জাতীয়করণের ঘোষণার পর থেকেই সরকারি নিয়মে টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে।'

এদিকে বিশ্বম্ভরপুর কলেজের অধ্যক্ষ বিমলাংশু রায় বলেন, 'জাতীয়করণ হলেও কলেজের সব খরচ চালাতে টিউশন ফি ছাড়া কোনো টাকা পাওয়া যায় না। তাই আগের নিয়মেই টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে।'

জামালগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল বিন বারী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি আমলের নিয়ম অনুযায়ীই টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের জাতীয়করণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সুফল শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা পাবেন না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান খান জানান, একসঙ্গে তিনশর বেশি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হয়েছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর তাতে প্রাথমিক প্রক্রিয়ার কাজ করে। শিক্ষা, সংস্থাপন, অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড়াও কেবিনেট ডিভিশন হয়ে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। নিয়োগের কাগজপত্রসহ নানা বিষয় নির্ভুলভাবে যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোর প্রক্রিয়াই শেষ হবে।

আরও পড়ুন

×