ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

বিয়েতে আসেনি বর জরিমানার টাকা দান

বিয়েতে আসেনি বর জরিমানার টাকা দান

জরিমানার টাকা হস্তান্তর। ছবি-সমকাল

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১০:১০

নির্ধারিত দিনে বিয়ে করতে না আসায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় প্রবাসীর এক ছেলেকে গুনতে হয়েছে ২ লাখ টাকা জরিমানা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের সালিশে ওই টাকা তুলে দেন তিনি। তবে তা নিতে অস্বীকৃতি জানান কনের বাবা। তিনি বরের গ্রামের কন্যাদায়গ্রস্ত কোনো বাবাকে ওই টাকা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলমের জিম্মায় রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে পাশের কার্পাসডাঙ্গার এক তরুণীর বিয়ের দিন ঠিক হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী আগের দিন হয় গায়ে হলুদ। কনের বাবা নিজের শেষ সম্বল দুটি গাভি বিক্রি করে ধুমধামে বিয়ের আয়োজন করেন।

ওই দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও দেখা মেলেনি বরের। আসেননি বরযাত্রীরাও। কনের বাড়িতে খবর আসে- বর অন্য মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এতে হতাশায় মুষড়ে পড়ে পরিবারটি।

কনের বাবা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। পেশায় কৃষক এই ব্যক্তি সংবাদে নাম প্রকাশ করতে চাননি। ওই ব্যক্তি বলেন, 'বিয়ের আসরে বর না আসায় আমাকে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছে। ওই পরিবারটি আমার পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।'

সব মিলিয়ে বিয়ের খাবারদাবারসহ অন্যান্য আয়োজনে ওই ব্যক্তির দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সালিশে গড়ায়। বৃহস্পতিবার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বরপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তুলে দেওয়া হয় কনের বাবার কাছে। তবে তিনি ওই টাকা না নিয়ে বরের গ্রাম ফুলবাড়ির কন্যাদায়গ্রস্ত কোনো বাবার হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ওই টাকা চেয়ারম্যান এসএম জাকারিয়া আলমের কাছে আমানত হিসেবে রেখে দেন।

এ বিষয়ে কনের এক মামা বলেন, 'মেয়ের বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা ওই গ্রামের একটি অসহায় পরিবার খুঁজছি। যাচাই-বাছাই করে ২ লাখ টাকা তাদের দিয়ে দেব।'

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'কনের বাবার এমন মনোভাব এলাকার জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। ওই টাকা আমার হেফাজতে আছে। অসহায় পরিবার খুঁজে পাওয়া গেলে টাকা তাদের হাতে তুলে দেবেন।'

আরও পড়ুন

×