ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

কর্মস্থলে না থেকেও ভাতা নেন রিসোর্স সেন্টারের সমন্বয়ক

কর্মস্থলে না থেকেও ভাতা নেন রিসোর্স সেন্টারের সমন্বয়ক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১০:৩১

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের সমন্বয়ক সামসাদ জাহান প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাঝেমধ্যে ঢাকায় থাকলেও ভাতা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। রিসোর্স সেন্টারটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজির বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতি ব্যাচের টানা ছয় দিন প্রশিক্ষণ চলে। এ সময়ে তাঁর কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও থাকেন ঢাকায়। বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও ছুটি নিয়ে বদলির জন্য ঢাকায় যান বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, সমন্বয়কের মাসে পাঁচটি স্কুল পরিদর্শনের নিয়ম রয়েছে। সে কারণে পাঁচ দিন কিশোরগঞ্জে আসেন। বাকি দিনগুলোয় প্রায়ই ঢাকায় অবস্থান করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন। উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের বগাদিয়ায় বিন্নগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রিসোর্স সেন্টারটি।

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলতে দেখা গেছে। তবে সমন্বয়ক সামসাদ জাহান সেখানে ছিলেন না। সূত্র জানায়, তাঁর নামে দৈনিক খাবার ভাতা বরাদ্দ আছে ২৮০ টাকা। আর ছয় দিনের জন্য কো-অর্ডিনেটর ফি হিসেবে থোক বরাদ্দ ১ হাজার ২০০ টাকা। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও এ ভাতা তোলেন বলে জানা গেছে।

রিসোর্স সেন্টারের জন্য চারজন শিক্ষককে আগেই প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষক করা হয়েছে। তাঁরা দুটি ব্যাচে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেন। প্রতি ব্যাচে থাকেন ৩০ জন। প্রশিক্ষণ চলে টানা ছয় দিন। সকাল ৯টা থেকে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিসহ বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। জাতীয় দিবস বা ছুটি না থাকলে সপ্তম দিন থেকে অন্য ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। শুক্রবারও এ কার্যক্রম চলে বলে প্রশিক্ষণার্থীরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষক ছিলেন সদরের কালিকাপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজ্ঞা লাবনী ও মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আউয়াল। প্রশিক্ষণ কক্ষে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন উপদলে গ্রুপ ওয়ার্ক করানো হচ্ছে। সেখানে একাধিক প্রশিক্ষণার্থী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, সমন্বয়কারী সামসাদ জাহান রিসোর্স সেন্টারে খুবই অনিয়মিত।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. গোলামুর রহমান জানান, রিসোর্স সেন্টারে পদ রয়েছে চারটি। সমন্বয়ক, সহকারী ইনস্ট্রাক্টর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও নিরাপত্তা প্রহরী। এর মধ্যে সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদটি শূন্য আছে।

এ সব বিষয়ে সামসাদ জাহান বলেন, তিনি তিন-চার মাস ধরে বদলির জন্য ঢাকায় ছোটাছুটি করছেন। সে কারণে একটু বেশি অনুপস্থিত থাকছেন। রিসোর্স সেন্টারের তদারকি কর্মকর্তা পিটিআই সুপারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। বৃহস্পতিবারও ছুটি নিয়েছেন। অনুপস্থিত থেকে ভাতা খুব কমই নিয়েছেন। প্রশিক্ষণার্থী কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও তাঁকে মানবিক কারণে তিনি ভাতা দেন বলে জানান।

রিসোর্স সেন্টারের তদারকি কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের পিটিআই সুপার ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি মাঝে মাঝে প্রয়োজন হলে ছুটি নেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার জন্য ছুটি দেওয়া হয় না। সামসাদ জাহানকে আগেও বেশি সময় অনুপস্থিত না থাকার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এর পরও তাঁর অনুপস্থিত থাকা ও ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, তিনি কয়েকজন শিক্ষকের কাছে এসব অভিযোগ শুনে সম্প্রতি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×