খুলনায় সাড়ে ১৩ হাজার কেজি চাল জব্দ, ৩ গুদাম সিলগালা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৬     আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৬   

খুলনা ব্যুরো

খুলনার কেন্দ্রীয় সরকারি খাদ্য গুদাম (সিএসডি) থেকে পাচারের সময় সাড়ে ১৩ হাজার কেজি চাল আটক করেছে র‌্যাব-৬। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটকের পর তার তথ্যের ভিত্তিতে সিএসডির সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর সরদারকেও আটক করা হয়েছে।
 
এছাড়া চাল পাচার হয়েছে—এ অভিযোগ তদন্তের জন্য বুধবার বিকেলে তিনটি গুদাম সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। এসব ঘটনায় নগরীর খালিশপুর থানায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলাও করা হয়েছে।
 
র‌্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান সমকালকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ভালো চাল বের করে বাইরে বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। ভালো চালের পরিবর্তে বাইরের নিম্নমানের চাল গুদামে ঢোকানো হতো। এছাড়া খোলাবাজারের (ওএমএস) চালের ট্রাক গুদাম থেকে বের করে অর্ধেক দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়—এমন নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে র‌্যাব-৬।
 
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সিএসডি থেকে গোপনে চাল সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়ে ওই চক্রটির পিছু নেয় র‌্যাব। ফুলতলার ১৪ মাইল এলাকা থেকে চালভর্তি একটি ট্রাক আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দৌলতপুর চালপট্টি থেকে খলিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে চালভর্তি ট্রাকসহ তাকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন আরও জানান, খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদে গুদাম থেকে চাল পাচারের সঙ্গে জড়িত সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আজগরকেও আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিএসডির ২৬, ১৮ ও ৩২ নং গুদামে গিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী ও নিম্নমানের চাল দেখতে পাওয়া যায়। অথচ এসব গুদামে ২০১৬ সালের বোরো মৌসুমের নতুন চাল থাকার কথা ছিল।
 
তিনি আরও জানান, পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল আউয়ালের উপস্থিতিতে তদন্তের জন্য ৯৯ দশমিক ৮৮০ মেট্রিকটন চালসহ ১৮ নম্বর গুদাম, ৬৬ দশমিক ৬২০ মেট্রিকটন চালসহ ৩২ নম্বর গুদাম সিলগালা করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার পাচার হওয়া চাল ২৬ নম্বর গুদাম থেকে বের হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়ায় সেটিও সিলগালা করা হয়।