ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

কোকেনকাণ্ডের নূর ও ডা. আকাশের স্ত্রী মিতু এখন বিদেশে

কোকেনকাণ্ডের নূর ও ডা. আকাশের স্ত্রী মিতু এখন বিদেশে

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৩ | ০৪:১৯

চট্টগ্রামের আলোচিত কোকেন চোরাচালান ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁদের আইনজীবীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোকেন চোরাচালানের হোতা নূর মোহাম্মদ ভারতে গিয়ে আর ফেরেননি। ডা. আকাশের আত্মহত্যার প্ররোচনায় প্রধান অভিযুক্ত স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতু যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে থিতু হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কিংবা আদালতে হাজিরার নোটিশের তোয়াক্কা না করে তাঁরা বছরের পর বছর অনুপস্থিত রয়েছেন।

 ২০১৫ সালের ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন সন্দেহে একটি কনটেইনার সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ২৮ জুন নগরের বন্দর থানার এসআই ওসমান গনি মামলা করেন।

২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ভোরে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে চট্টগ্রাম নগরীর চাঁন্দগাঁও আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক আকাশ। মৃত্যুর আগে তিনি ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে আত্মহত্যার জন্য স্ত্রীকে দায়ী করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোকেন মামলার আসামি নূর চিকিৎসার নামে ভারতে চলে গেছেন। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই তিনি জামিন পান। পরে সাড়ে পাঁচ বছরে একবারও আদালতে হাজিরা দেননি। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলেও তা পালন করেননি তিনি। ভারতের গুজরাটে আত্মীয়দের কাছে তাঁর অবস্থান। ৪৩ বার মামলার শুনানি হলেও অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত।

অন্যদিকে ডা. আকাশ আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মিতু সাড়ে তিন বছর ধরে নিরুদ্দেশ। ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। তাঁকে আদালতে হাজির হতে নোটিশ ও শোকজ করলেও সাড়া দেননি। মা-বাবার কাছে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। দুই মামলার প্রধান দুই আসামির আইনজীবীদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ নেই।

নূরের আইনজীবী রাসেল সরকার বলেন, নূর বহুদিন ধরে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। তাঁর আত্মীয়স্বজন থেকে জানতে পেরেছি, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত চলে গেছেন। গুজরাটে আছেন বলে তিনি শুনেছেন।

মিতুর আইনজীবী সানোয়ার আলম বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর একবার যোগাযোগ হয়েছিল। তারপর থেকে সাড়ে তিন বছর কোনো যোগাযোগ নেই। মিতু যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে শুনেছেন। যেহেতু যোগাযোগ করেননি, মনে হয় আর ফিরবেন না।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি আবদুর রশিদ বলেন, কোকেন মামলার প্রধান আসামি নূর ভারতে চলে গেছেন। পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার শর্ত থাকলে পালাতে পারতেন না। মামলার রায় হওয়ার আগে দেশে না ফিরলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর এপিপি আবদুল্লাহ আল বেলাল বলেন, জামিনে মুক্তি পান ডা. আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মিতু। নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মিতুর পরিবার আমেরিকায় থাকে। জামিন পাওয়ার পর সেখানে চলে গেছেন বলে তথ্য রয়েছে।

ডা. আকাশের মা জোবাইদা খানম বলেন, আমার ছেলেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে মিতু। সে জামিন পেলে বিদেশে চলে যাবে– আমরা বারবার আদালতকে জানিয়েছিলাম। জামিনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিতু পালিয়েছে। ছেলে হত্যাকারীর শাস্তি দেখে মরতে চান বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×