ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৩ | ০৫:২৫ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৩ | ০৬:৪৩

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও তার পরের দিন পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ছুটে চলছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। ঈদের প্রথম দিন ও আজ পর্যটকদের ঢল নেমেছে চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। 

ঢাকা, সিলেট, পিরুজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনোদন প্রেমীরা আসেন উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ঈদের দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় পর্যটকদের আনাগোনা ছিল বিপুল।   

ঈদের দিন বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। দল বেঁধে পর্যটকরা বনের ভেতর প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করছেন। অনেকে আবার চা বাগানের টিলায় দল বেঁধে ছবিও তুলছেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল লম্বা লাইন।

এদিকে বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় চুনারুঘাট পুলিশ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের নিরাপত্তা জোরদার রেখেছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। 

দর্শনার্থীরা জানান- প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিরল প্রজাতির গাছপালা আর বন্যপ্রাণী একসঙ্গে দেখা যায় সাতছড়িতে। যে কারণে এই স্থানটি তাদের অন্যরকম ভালো লাগার জায়গা।

পিরুজপুর থেকে এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাফিউর রহমান । তিনি বলেন, সাতছড়িতে আমি এবার প্রথম এসেছি। সঙ্গে আমার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে এসেছে। আমরা পত্রিকা এবং ইন্টারনেটে এই উদ্যানের বিষয়ে শুনেছি। এখানে এসে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। এখানে সব কিছু একেবারে ন্যাচরাল। বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণী আর বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে। যেগুলোর নামও কখনো শুনিনি। একটু ভেতরের দিকে ঢুকলে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে মন ভরে যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ। 

ঢাকার মাতুয়াইল থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১ মাস কোথাও ঘুরাঘুরি করা সম্ভব হয়নি। এবার ঈদেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম। শহুরে জীবন থেকে এই প্রাকৃতিক স্থানে এসে কিছু সময়ের জন্য হলেও জীবনকে উপভোগ করলাম। 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, ঈদের দিন থেকে এখানে পর্যটকদের পরিমাণ বেড়েছে। আগামী এক  সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে।  

তিনি আরও জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে তারা প্রস্তুত। বনের ভেতরটা তারা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন। বন বিভাগ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ক্যাশিয়ার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঈদের দিনে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। টিকিট বিক্রির হিসাব অনুযায়ী ঈদের দিন বয়স্ক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক মিলিয়ে উদ্যানে পর্যটক এসেছেন ৫ হাজার ২৮৮ জন। এই দিন সাতছড়ি উদ্যান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৫০ টাকা।  

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে জরুরি ভিত্তিতে টুরিস্ট পুলিশ দরকার। কারণ সেখানে নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কোন খবর পাওয়া যায় না। সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গায় টুরিস্ট পুলিশ থাকলে পর্যটকরা নিরাপদে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। তারপরও পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সব ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানকে তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রেখেছেন। 

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সার্বক্ষণিক পুলিশের টহলের ব্যবস্থা আছে।

আরও পড়ুন

×