এত লাশ কখনও দেখেনি রাঙামাটির মানুষ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৭      

রাঙামাটি অফিস

পাহাড় ধসের পর উদ্ধার তৎপরতা- সংগৃহীত

টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়া রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ একের পর এক নিয়ে আসছেন উদ্ধারকর্মী ও  তাদের আত্মীয়-স্বজন। এই পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় পুরো রাঙামাটি হাসপাতাল এলাকা ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। 
 
টানা ভারি বর্ষণে রাঙামাটি জেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শুধু রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী, রাঙ্গাপানিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়া ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর পরিবারের মা ও ছেলের লাশ রয়েছে।
 
হাসপাতালে নিয়ে আসা লাশের আত্মীয়-স্বজনের কান্না কিছুতেই থামছে না। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে এত অধিক সংখ্যক লাশের সারি আর কখনও দেখেনি এলাকার লোকজন।
 
রাঙামাটি হাসপাতালে আসা ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ রবিধন চাকমা জানান, পাকিস্তান আমলে একবার এ ধরনের টানা ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম একটানা ও ভারি বৃষ্টি হয়।
 
এদিকে, মাটিতে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় যুব সমাজ ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।
 
শহরের ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকার পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে নিহত সোনালী চাকমা ও তার তিন বছরের ছেলে আমিয় চাকমার মৃত্যু তার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন কিছুতেই মানতে পারছেন না। অনেকেই বলছেন প্রকৃতি এমন আচরণ করল, যাতে মা ও ছেলেকে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিতে হয়েছে।
 
অন্যদিকে, ভেদভেদী এলাকার সনাতনপাড়ার একই পরিবারের বাবা লিটন মল্লিক, ছেলে আয়ুশ মল্লিক, মেয়ে চুমকি মল্লিক প্রকৃতির বিরূপ আচরণের কারণে মাটিতে চাপা পড়ে মারা গেছেন। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজন। তাদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকার আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে।