ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

সামাজিক উদ্যোগ

রাঙামাটির ১২ স্থানে স্বেচ্ছায় লকডাউন

রাঙামাটির ১২ স্থানে স্বেচ্ছায় লকডাউন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে রাঙামাটি শহরের বিজয়নগর (ওপরে) ও বনরূপার কাটাপাহাড় এলাকায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে লকডাউন ঘোষণা করেছে এলাকাবাসী -সমকাল

সত্রং চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:০১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে রাঙামাটিতে ১২টি স্থানে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে লকডাউন করেছেন। করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষা পেতে এ উদ্যোগে সাড়াও মিলেছে।
জানা গেছে, সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ১০ দিনের ছুটি ঘোষণার পর থেকে রাঙামাটি শহরসহ কয়েকটি পাড়া ও মহল্লাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে লকডাউন ঘোষণা করেন। পাড়া লকডাউনের কারণে সব ধরনের যানবাহন ও বাইরের লোকজন পাড়ায় প্রবেশ করতে পারছে না। বাইরের লোকজন পাড়ায় ঢুকতে হলে ব্যারিকেড দেওয়া স্থানে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত রাঙামাটি শহরে পাড়াবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে লকডাউন করা এলাকার মধ্যে বনরূপা এলাকার কাটাপাহাড় (পোড়া ভিটা), পশ্চিম ট্রাইবেল আদাম, বিজয়নগর (ভালেদী আদাম), কেকে রায় সড়ক, কল্যাণপুর, আসামবস্তির লেবুছড়ি, রিজার্ভ বাজারের নাপ্পিঘাট, গর্জনতলী, বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যম বাঘাইছড়ি উল্লেখযোগ্য।
গতকাল বুধবার লকডাউন এলাকা কাটাপাহাড় ও বিজয়নগর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের ছুটি ঘোষণার পর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ও নিজেদের সুরক্ষা রাখতে, বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে এলাকা লকডাউন করেছেন। পাশাপাশি অনেকে পাহারাও দিচ্ছেন। অচেনা লোকজন দেখলে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। কাটাপাহাড় এলাকায় লকডাউন করা স্থানে কথা হয় ধন চাকমাসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পাড়ার লোকজনসহ নিজেদের সুরক্ষা রাখতে তারা বাঁশ দিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে এলাকাটি লকডাউন ঘোষণা করেছেন। কারণ, এই পাড়ার বাইরে থেকে অনেক লোকজন অযথা এই পাড়ায় এসে আড্ডা ও ঘোরাফেরা করেন। এ ছাড়া অনেকে যানবাহনও নিয়ে আসেন। লকডাউন ঘোষণার পর এসব বন্ধ হয়েছে। তা ছাড়া পাড়ায় কোনো লোকজন এলে তাকে ব্যারিকেডের সম্মুখীন হচ্ছে।
অপর লকডাউন এলাকা বিজয়নগরের মহাপ্রুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুরঞ্জিত চাকমা জানান, এলাকাটি সুরক্ষা রাখতে বাঁশ দিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। কোনো লোকজন এই পাড়ায় ঢোকার আগে অন্ততপক্ষে নোটিশটা পড়তে পারছেন এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক হচ্ছেন। একই এলাকার বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মী সুপ্রিয় চাকমা শুভ জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে সতর্কতামূলক লেখা নোটিশসহ লকডাউন করা হয়েছে।
রাঙামাটিতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৯২ জন :করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গতকাল বুধবার পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৯২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ১৮২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের মধ্য থেকে ৯০ জনকে এরই মধ্যে ছাড়পত্র দিয়েছে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। গতকাল একজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়াসহ মোট ৯২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×