উদ্ভাবন

পিয়াসের 'বিস্ময় বাড়ি'

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

মোস্তাফিজুর রহমান ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

বয়স ১৬ বছর। এই বয়সেই লেখাপড়া, উদ্যম আর উদ্ভাবনী শক্তির বলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পুরো এক বাড়ির প্রজেক্ট তৈরি করে ফেলেছে সে। যে বাড়িতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় চুলা, পাম্প, বিদ্যুৎ সিস্টেম, প্যাসিভ ইনফ্রারেড সেন্সর, স্মোক অ্যালার্মসহ দারুণ সব ব্যাপার। নিরাপদ, সাশ্রয়ী আর পরিবেশবান্ধব এই প্রজেক্ট উপস্থাপন করে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কারও নিয়েছে পিয়াস। স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়ার।

ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র রিদওয়ানুল হক পিয়াস এবার সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সারা দেশ থেকে প্রতিভাধর ছাত্রছাত্রী খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ সরকারের একটি উদ্যোগ এই সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা। ২০১৮ সালের এ প্রতিযোগিতায় স্কুল ও জেলা পর্যায়ে অংশ নেয় পিয়াস। বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিযোগিতায় ওয়ান্ডার হাউজ বা বিস্ময় বাড়ি প্রজেক্টটি উপস্থাপন করে ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। ৮ জুলাই তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিস্ময় বাড়ি তৈরি করা বিস্ময় বালক পিয়াসের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার আদালতপাড়ায়। ঈশ্বরগঞ্জ চৌকি আদালতের অবসরপ্রাপ্ত সেরেস্তাদার শামছুল হক ও মদিনা হক দম্পতির চার সন্তানের সবার ছোট পিয়াস। জিএসএম রিমোট কন্ট্রোলার, পিআইআর সিকিউরিটি কলার, স্মোক অ্যালার্মের মতো অত্যাধুনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার কারণেই পিয়াসের নকশা করা বাড়িটি অভিনবত্ব পেয়েছে। বাড়িটিতে যা যা থাকবে :

জিএসএম রিমোট কন্ট্রোলার :গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল (জিএসএম) রিমোট কন্ট্রোল এমন একটি রিমোট কন্ট্রোল, যা সুইচিং পদ্ধতিতে যে কোনো ইলেকট্রিক বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসকে বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় চুলা :স্বয়ংক্রিয় চুলার ওপর পাতিল বসালে চুলা নিজ থেকেই চালু হয়ে যাবে। আবার পাতিল সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলাটি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে গ্যাস সাশ্রয় হবে। অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও কমে যাবে অনেক। মাত্র ১৮৮ টাকা খরচ করলেই স্বয়ংক্রিয় চুলার বিশেষ ডিভাইসটি তৈরি করা সম্ভব।

প্যাসিভ ইনফ্রারেড সেন্সর (পিআইআর) গতি শনাক্তকারী :এ ডিভাইসটি মানুষের উপস্থিতি নির্ণয় করতে পারে। তাই কক্ষে এ যন্ত্রটি লাগানো থাকলে কোনো ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কক্ষের পাখা ও বাতি বা অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু হয়ে যাবে। আবার বের হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বন্ধ হয়ে যাবে, যা বিদ্যুতের অপচয় রোধে সহায়তা করবে। এর খরচ পড়বে মাত্র ১৩০ টাকা।

প্যাসিভ ইনফ্রারেড সেন্সর (পিআইআর) সিকিউরিটি কলার :বাড়িতে তালা লাগানো থাকতে তা ভেঙে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ব্যক্তি যদি ঘরে ঢুকে পড়ে, তবে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিকের মোবাইলে একটি কল চলে যাবে। এতে মালিক তাৎক্ষণিক পুলিশকে তা জানাতে পারবেন।

স্মোক অ্যালার্ম :বাড়িতে আগুন লাগলে স্মোক সেন্সরে তা ধরা পড়বে। তখন অ্যালার্ম বাজতে থাকবে। সেই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কাছে অটোমেটিক কল চলে যাবে। এতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ ও সম্পদহানির ঘটনা কমবে। এতে খরচ পড়বে মাত্র ৯৮ টাকা।

স্বয়ংক্রিয় পানির পাম্প নিয়ন্ত্রক :এ কন্ট্রোলার ডিভাইসটি ব্যবহার করলে ট্যাঙ্কে পানি ভরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটর বন্ধ হয়ে যাবে। আবার ট্যাঙ্ক খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটর চালু হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এ যন্ত্রটি আমাদের দেশে আছে, তবে অনেক ব্যয়বহুল। পিয়াসের এ যন্ত্রটি বানাতে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০ টাকা।

আলোক সংবেদনশীল সুইচ :আমাদের দেশের বাতিগুলোতে যদি এলডিআর ডিভাইস লাগানো যায় তবে অন্ধকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিগুলো জ্বলে উঠবে। আবার দিনের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতি নিভে যাবে।

এখন পিয়াসের স্বপ্ন তার বিস্ময় বাড়িতে ব্যবহূত প্রযুক্তিগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। বিস্ময় বাড়িটি সর্বোচ্চ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। এতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের মতো দেশের মূল্যবান সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব। যে কেউ খুব কম খরচে ডিভাইসগুলো লাগিয়ে নিজের বাড়িকে বিস্ময় বাড়ি বানাতে পারবে বলে জানায় পিয়াস। সে জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

পিয়াস আরও জানায়, বিস্ময় বাড়িটি বানাতে তাকে উৎসাহিত করেছেন তার ভগ্নিপতি আশরাফুজ্জামান। তার সহযোগিতা ও উৎসাহে মাত্র ১৫ দিনে সে বিস্ময় বাড়িটি তৈরি করেছে। আর বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক হাশিম উদ্দিন আর্থিক সহযোগিতা করে তাকে এগিয়ে দিয়েছেন। পিয়াসের আশা, পড়ালেখা শেষে নিজে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি দেবে।

পিয়াসের মা মদিনা হক বলেন, সন্তানদের স্বাধীনতা দিয়ে বড় করছেন। তারা যেটা করতে চেয়েছে, সেটাতেই সহযোগিতা করেছেন বন্ধুর মতো।

পিয়াসের বাবা শামছুল হক জানান, ছেলের উদ্ভাবিত বাড়িটি দেখে নিজেই অভিভূত হয়েছেন। পিয়াসের প্রিয় শিক্ষক হাশিম উদ্দিন বলেন, 'পিয়াস অত্যন্ত মেধাবী। তার বিস্ময় বাড়ি প্রজেক্টটি আন্তর্জাতিক মানের ও পরিবেশবান্ধব। এর বাস্তব প্রয়োগ ও ডিভাইসগুলোর প্রসার ঘটানো গেলে দেশে-বিদেশে সমাদৃত হবে পিয়াসের এ প্রকল্প।'

সর্বত্র নন-লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিরাজ করছে: মওদুদ

সর্বত্র নন-লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিরাজ করছে: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে নির্বাচনের ...

গম্ভীরের অবসরের কারণ ধোনী?

গম্ভীরের অবসরের কারণ ধোনী?

নাম গম্ভীর হলেও মাঠে তিনি মোটেও গম্ভীর ছিলেন না। গৌতম ...

জামিন পেলেন হুয়াওয়ের সিএফও

জামিন পেলেন হুয়াওয়ের সিএফও

চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে মেন ওয়ানঝো’কে ...

সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি

সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি

আপনারা কি এমন দম্পতি যারা নিজেদের মজার কোন ডাক নামে ...

রিকশাচালককে পিটিয়ে আ'লীগ থেকে বহিষ্কার হলেন সেই নারী

রিকশাচালককে পিটিয়ে আ'লীগ থেকে বহিষ্কার হলেন সেই নারী

রিকশাচালককে মারধরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী ...

বাশারকে ছাড়ানোর অপেক্ষা মাশরাফির

বাশারকে ছাড়ানোর অপেক্ষা মাশরাফির

বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা; এ নিয়ে সম্ভবত কোন ...

সেরে উঠছেন টেলি সামাদ, নেয়া হচ্ছে বেডে

সেরে উঠছেন টেলি সামাদ, নেয়া হচ্ছে বেডে

গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ...

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কোটালীপাড়া

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কোটালীপাড়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের প্রচার শুরু করতে বুধবার গোপালগঞ্জের ...