আ. লীগের দু'পক্ষে সংঘাত এড়াতে বেলকুচিতে ১৪৪ ধারা

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৮      

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সরকার দলীয় দু'পক্ষের ডাকা সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপজেলা আ. লীগ কার্যালয় এবং এর আশপাশে পৌর এলাকার চালায় ১৪৪ ধারা জারি করেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে, ১৪৪ ধারা জারির কারণে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত না হতে পারলেও সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সামনে পথসভা করেন। অপরদিকে বর্তমান এমপি মজিদ মন্ডল সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে অপরপক্ষের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে সভাসমাবেশ করতে না পেরে আশপাশে লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের দফায় দফায় ছত্রভঙ্গ করে। 

বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ইউসুফজী খান বলেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক চা-চক্রের আমন্ত্রণে সাবেক মৎস্য মন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের  বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আসার কথা ছিল। কয়েকদিন আগেই এ কর্মসূচি নির্ধারণ করা ছিল। এমপি মজিদ মন্ডল সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা এ কর্মসূচির কথা শুনে তার দলবল নিয়ে বুধবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে এসে হম্বিতম্বি করেন। তারা  পিয়নকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দলীয় কার্যালয়ের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেলকুচি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক এসে পাটি কার্যালয় খুলে দিলেও রেজা ও তার দলবল লাঠিসোঠা নিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। 

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওলিউজ্জামান বলেন,  উপজেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ লাঠিসোঠা নিয়ে পৌর এলাকার চালা মহল্লায় অবস্থান নেয়। আরেকটি পক্ষ মুখোমুখি হবার উপক্রম ছিল। এমন খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন থেকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আ. লীগ কার্যালয় এবং এর আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করি। সহিংস ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি আমরাও পৌর এলাকায় অবস্থান নিয়েছি। 

বেলকুচি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেলকুচি উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের চাবি কেউই কেড়ে নেয়নি। এমনকি আমরাও কাউকে ঢুকতেও দেইনি বা চাবি দিয়ে খুলতে সহযোগীতাও করিনি। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও অপ্রীতিকর ও সহিংস ঘটনা এড়াতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী বেলকুচির পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের আত্মীয় যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজি ও বেলকুচি পৌরসভা কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে যুবলীগ নেতা রেজা ও ফারুকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন মেয়র আশানুর বিশ্বাস।