বাল্যবিয়ে

শ্বশুরবাড়ি যাবে না, তাই আত্মহত্যা

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৮      

কবীর উদ্দিন সরকার হারুন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

নিহত রমিছা

ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাল্যবিয়েতে বাধ্য করায় বাবার প্রতি অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে রমিছা নামে এক কিশোরী। মাত্র ১২ বছরের মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। 

বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বৈলাজান গ্রামে। 

রমিছা গ্রামের সবজি বিক্রেতা রুহুল আমীনের মেয়ে। সে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত। 

রমিছার আত্মহত্যার পর পুরো পরিবার তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য পরিতাপ করছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

রমিছার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়িয়া থানার এস আই সাইদুর রহমান।

এলাকাবাসী জানায়, ঈদুল ফিতরের সময় পার্শ্ববর্তী পাটুলী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মাসুদ রানার সঙ্গে রমিছাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর রমিছা শ্বশুরবাড়ি যেতে রাজি ছিল না। বুধবার রমিছাকে নিতে আসে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এ সময় সবার অগোচরে বিষপান করে স্বাভাবিক চলাচল করতে থাকে রমিছা। একপর্যায়ে বিকেলের দিকে রমিছা ছটফট করতে করতে বমি করলে বিষের গন্ধ বের হয় তার মুখ থেকে। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। তখন সে বলে, 'আমি বিষ খেয়েছি'। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

মেয়ের এমন মৃতুতে বারবার মূর্ছা যান মা রেহানা পারভীন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, 'রমিছার বাপেরে বারবার নিষেধ করছি মাইয়্যার অমতে বিয়া দিয়েন না। আমার কথা না হুইনা মাইয়্যারে জোর কইরা বিয়া দিছে অর বাপে।' 

রমিছার বিষয়ে তার স্কুল শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মগনী বলেন, ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। রমিছা আমাদের স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবার গোপনে মেয়েকে বিয়ে দেয়, আর যার ফলে এমন মৃত্যু। এমন পিতার কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।