নান্নু আকরাম তামিমের মাঠটি বাঁচাবে কে

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

রুবেল খান, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকার আউটার স্টেডিয়াম মাঠে চলছে মেলা- সমকাল

চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পাশে যে খোলা মাঠটি রয়েছে, সেটি আউটার স্টেডিয়াম নামে চেনে সবাই। এটি ছিল এক সময় স্থানীয় খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র। অনেক ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো এখানে। সকাল-বিকেল মুখর হয়ে উঠত উদীয়মান ফুটবলার ও ক্রিকেটারদের পদচারণায়, মিলনমেলায় পরিণত হতো খেলোয়াড়দের। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, তামিম ইকবাল, আফতাবরা এই মাঠে খেলেই বড় মাপের ক্রিকেটার হয়েছেন। তাদের অনেক সুখস্মৃতিও রয়েছে এই মাঠকে ঘিরে। কিন্তু এত স্মৃতিবিজড়িত সেই স্টেডিয়ামটির এ কী হাল বর্তমানে!

চট্টগ্রামের এই আউটার স্টেডিয়ামের একপাশে আন্ততর্জাতিক মানের সুইমিংপুল কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ চলছে। খোলা মাঠ হিসেবে বাকি যেটুকু জায়গা রয়েছে, সেটুকু কখনও থাকছে অঘোষিত ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে. আবার কখনও থাকছে মেলার দখলে! এ কারণে কেউ আর এখন খেলারই সুযোগ পাচ্ছে না এই মাঠে।

চট্টগ্রামে এমনিতেই খেলার মাঠের চরম সংকট। তার মধ্যে এভাবে বছরের প্রায় পুরোটা সময় স্টেডিয়ামটি ট্রাকস্ট্যান্ড কিংবা মেলার দখলে থাকায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে উদীয়মান ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের। এতে তাদের মাঝে দেখা দিচ্ছে ফিটনেসের ঘাটতি, প্রতিযোগিতামূলক যে কোনো কর্মকাণ্ডেও পিছিয়ে পড়ছে তারা। এ কারণে মাঠটি দ্রুত খেলার উপযোগী করার দাবি সবার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, 'আউটার স্টেডিয়ামের চেহারা দেখলে বড় কষ্ট হয়। গত সপ্তাহেও ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে দেখেছি, খেলার বদলে মেলা চলছে ওটাতে। মেলা না থাকলে থাকে ট্রাকস্ট্যান্ডের দখলে। এমনিতেই চট্টগ্রামে খেলার মাঠের সংকট প্রকট। তার মধ্যে বছরের পুরোটা সময় বেদখলে থাকলে উদীয়মান ক্রিকেটার ও ফুটবলাররা যাবে কোথায়?'

তিনি আরও বলেন, 'আমরাও এই স্টেডিয়ামে খেলে বড় হয়েছি। এই মাঠের সঙ্গে আমাদের অনেক সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে। চট্টগ্রাম থেকে ভালো মানের ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার বের হয়ে না আসার অন্যতম কারণ এই মাঠ সংকট।'

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান বলেন, 'আউটার স্টেডিয়ামে নান্নু ভাইরা খেলতেন, তাদের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হতাম আমরা। আমিও ছোটবেলায় এই মাঠে অনেক খেলেছি। এখন এখানে কেউ খেলার সুযোগই পাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আসলে শিশু-কিশোররা যদি মাঠে গিয়ে খেলারই সুযোগ না পায়, তাহলে তাদের শারীরিক ফিটনেস গড়ে উঠবে কীভাবে? আমি মনে করি, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নাছির ভাই এ ব্যাপারে সচেতন। তিনি স্টেডিয়ামটি খুব শিগগিরই খেলার উপযোগী করে উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন।'

চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শায়েস্তা খান বলেন, 'চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই খেলার মাঠের ভীষণ সংকট রয়েছে। এই মাঠ সংকটের কারণে পাইওনিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্টসহ অনেক ক্রীড়া প্রতিযোগিতারই আয়োজন করতে পারছি না ঠিকমতো। এর মধ্যে আউটার স্টেডিয়ামসহ হাতেগোনা যেসব মাঠ রয়েছে, সেগুলোও বছরের অধিকাংশ সময়ই থাকছে মেলার দখলে। এভাবে খেলার মাঠ মেলার দখলে যাওয়াটা এই প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।'

খেলার মাঠ দখল করে আর মেলা না করার জন্য এবং নগরীতে নতুন নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার জন্য সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, নগরীর সিআরবি এলাকাটি মেলার জন্য বেশ উপযোগী। বিশাল এই এলাকাজুড়ে এখন প্রতিবছরই বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। তাই খেলার মাঠ দখল না করে সিআরবি ও পাহাড়তলী এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনায়সেই মেলার আয়োজন করা যায়।