চালক বাসা থেকে লাইসেন্স আনার পর ছাড়া পেল পুলিশের গাড়ি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ০২ আগস্ট ২০১৮      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে পরিবহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীরা- সমকাল

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছিল চট্টগ্রাম। নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এদিনও রাস্তায় নেমে পড়েন।

সকাল থেকে নগরের ওয়াসা মোড়, দুই নম্বর গেট ও লালখানবাজার এলাকায় পরিবহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন তারা। এতে বাদ পড়েনি আইনশৃঙখলাবাহিনী ও গণমাধ্যমের গাড়িও। 

সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরে ওয়াসার মোড়, লালখানবাজার ও ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় সমবেত হন। এ সময় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে। শুরুতে তারা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনেক অভিভাবক ও পথচারীরা এসে সংহতি প্রকাশ করেন। পরে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই পথে যাচ্ছিলেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) হারুনুর রশিদ হাযারী। এ সময় তার গাড়ি আটক করে শিক্ষার্থীরা। গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাইলে চালক সেটি দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে গাড়িটি আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে চালক বাসা থেকে লাইসেন্স নিয়ে আসলে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এ প্রসঙ্গে উপ কমিশনার হারুনুর রশিদ হাযারী বলেন, চালকের লাইসেন্স ছিল না তা সঠিক নয়। ভুলে বাসায় ফেলে এসেছিল। পরে গিয়ে নিয়ে এসেছে।

এরপর সেখান দিয়ে চলাচলকারী একটি পুলিশ ভ্যানকে থামানোর চেষ্টা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। থামাতে না পেরে গাড়িটি লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়লে এর চালক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় তিন শিক্ষার্থীও আহত হন। পরে চালকের লাইসেন্স না থাকায় ডিবি পুলিশের একটি গাড়িসহ (চট্টমেট্রো-ছ-১১-০৩৩৩) আরও কয়েক পুলিশ সদস্যের গাড়ি আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এছাড়া চালকের লাইসেন্স না থাকায় শতাধিক মিনি ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মিনিবাস আটক করে শিক্ষার্থীরা। যাত্রীদের নামিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

পুলিশ সদস্যদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান সমকালকে বলেন, সবার জন্য যে আইন পুলিশ সদস্যদের জন্যও একই আইন। গাড়ি চালানোর সময় লাইসেন্স না রাখা ঠিক না। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সকল পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গাড়িতে লাইসেন্স রাখতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থী অনিক নন্দী বলেন, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা, চালকের লাইসেন্স আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পুলিশের। অথচ পুলিশ সদস্য ও পুলিশের কর্মকর্তাদের গাড়ির চালকের লাইসেন্স নেই। সাধারণ যাত্রীবাহী অনেক গাড়ির চালকের লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি। লাইসেন্স ছাড়া এসব চালক গাড়ি চালাচ্ছে কি করে?

সুচিত্রা বড়ুয়া নামে এক অভিভাবক সমকালকে বলেন,সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সরকারের। কেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের সন্তানদের রাস্তায় নামতে হবে? কেন আমার সন্তানরা নিরাপদে স্কুল থেকে ফিরতে পারবে না? কেন ফুটপাতে দোকানের কারণে নিরাপদে হাঁটতে পারবে না আমার সন্তানরা?

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ সমকালকে বলেন, গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে চালকদের কাছ থেকে লাইসেন্স দেখতে চেয়েছে। যাদের লাইসেন্স আছে তাদের ছেড়ে দিয়েছে তারা। বাকিদের চাবি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।