আসামিরা চতুর, ধরতে গেলেই পালিয়ে যাচ্ছে: পুলিশ

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

পাবনা অফিস

নিহত সুবর্ণা আক্তার নদী

পাবনায় সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তার নদী হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও এজাহারভুক্ত আসামি প্রাক্তন স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব ও তার বন্ধু মিলন এখনও গ্রেফতার হয়নি। তারা নজরদারিতে আছে- এমন দাবি করলেও পুলিশ তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি। 

সোমবার পাবনা পুলিশ জানায়, অভিযান চলছে। তবে আসামিরা খুব চতুর। ধরতে গেলেই পালিয়ে যাচ্ছে। 

পুলিশের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নদীর পরিবার। 

সাংবাদিক নদী হত্যায় গ্রেফতার তার সাবেক শ্বশুর শিল্পপতি আবুল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার সন্ধ্যায় পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার জানান, আবুল হোসেনের কাছ থেকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। 

নদীর মা মর্জিনা খাতুন অভিযোগের সুরে বলেন, নদী মৃত্যুর আগে হত্যাকারীদের নাম বলে গেলেও ঘটনাস্থলে থাকা খুনিদের একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এটি দুঃখজনক। নদী বলে গিয়েছিল, তার প্রাক্তন স্বামী রাজিব ও তার সহকারী মিলনসহ চার-পাঁচজন মোটরসাইকেলে এসে তার ওপর হামলা চালায় এবং চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। তাদের নাম উল্লেখসহ আরও সাত-আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। 

এদিকে গত রোববার রাজিবের মা ও বোন শাপলাকে ডেকে জিজাজ্ঞাবাদ করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নদীর বোন চম্পা খাতুন জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই প্রাণনাশের শঙ্কায় ভুগত তার বোন। মামলাও করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের হাতেই প্রাণ গেল তার। 

পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আবদুল মতীন খান বলেন, নদী হত্যার ব্যাপারে প্রথমে পুলিশের ভূমিকা ছিল ভালো। তবে নদীর শ্বশুর আবুল হোসেনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো, তার কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়া- এসব আইওয়াশ মনে হচ্ছে। 

পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, আসামিদের ধরতে চেষ্টার ত্রুটি নেই। আজও (সোমবার) রাজিব ও মিলনকে ধরতে মালঞ্চি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তারা এতই চতুর, ধরতে গেলে পালিয়ে যাচ্ছে, বারবার স্থান পাল্টাচ্ছে। প্রথমে মোবাইল ব্যবহার করলেও এখন আর করছে না। তবে শিগগিরই তারা ধরা পড়বে।