এমপি মনোরঞ্জন শীলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আওয়ামী ঐক্য পরিষদ- সমকাল

ঘুষ, দুর্নীতি, জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা, দলীয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানী এবং তৃণমূলের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে এনে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছে আওয়ামী ঐক্য পরিষদ। 

বুধবার সন্ধ্যায় বীরগঞ্জ-কাহারোল আওয়ামী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এই সমাবেশে সাংসদ গোপালকে বহিরাগত ও জনবিচ্ছিন্ন আখ্যায়িত করেন বক্তারা বলেন, এমপি গোপাল নির্বাচিত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে জামাত-বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় লোকদের উপর হামলা, মামলা চালিয়ে ক্ষতি করেছে। 

আমরা কোন দুর্নীতিবাজ নেতা চাইনা, আমরা দুর্নীতি মুক্ত, মাদক, সন্ত্রাস ও বহিরাগত মুক্ত নেতা চাই। সমাবেশের আগে বীরগঞ্জ পৌর এলাকায় বীরগঞ্জ-কাহারোল আওয়ামী ঐক্য পরিষদ এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

বীরগঞ্জ বিজয় মঞ্চে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বীরগঞ্জ-কাহারোল আওয়ামী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম। 

সভায় বক্তব্য রাখেন বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা, সাবেক এমপি আব্দুল মালেক সরকার, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম ও যুবলীগ সভাপতি নুরিয়াস সাঈদ, কৃষক লীগ সভাপতি শিবলি সাদিক, বীরগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি অরুন চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রাজিউর রহমান, কাহারোল হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রভাষ চন্দ্র রায়, কাহারোল পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপেশ চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জের পলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্টত্মাক আহমেদসহ দুই উপজেলার আওয়ামী লীগসহ এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, আওয়ামী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি আবু হোসাইন বিপু।

সভায় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে বক্তারা বলেন, মনোরঞ্জনশীলের বাড়ি বীরগঞ্জ বা কাহারোলে নয়। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের চাকুরি দিয়েছেন। উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে বেশিরভাগ দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হয়েও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদর বিরুদ্ধে মামলা মামলায় জর্জরিত করেছেন। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ভুঁইফোড়, বহিরাগতদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। সরকার দেশের উন্নয়নের বরাদ্দ দিয়েছে। সাংসদ গোপাল সেই বরাদ্দ নিজের ঠিকাদারের মাধ্যেমে নিজের উন্নয়ন করেছেন। 

সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, তার এসব কর্মকান্ডের জন্য বীরগঞ্জ-কাহারোলবাসী আগামী সংসদ নির্বাচনে কোনভাবেই গোপালকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়না। এ জন্য তাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার ঘোষনা দেয়া হয়। 

এ বিষয়ে সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু নেতাকর্মী এলাকার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এই সমাবেশ করেছে। মানুষকে বলা হয়েছে সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে সমাবেশ হবে। কিন্তু সেখানে সমাবেশ হয়েছে সরকারের বিরল্ফম্নদ্ধে। তাছাড়া যেখানে সমাবেশ হয়েছে সেই স্থানটিও সমাবেশের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বা মনোনয়ন নিয়ে তার বিরুদ্ধে গুজব রটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।