২ শিশুর গলাকাটা লাশ মেঝেতে, মায়ের লাশ সিলিংফ্যানে

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিজনগর গ্রামে ঘরের মধ্য থেকে দুই শিশুর গলাকাটা লাশ ও সিলিংফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলো- ওই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদের স্ত্রী হাদিছা বেগম (২৫), তার শিশুকন্যা মিম (৩) এবং ৭ মাসের শিশুপুত্র মোজাহিদ।

শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান কুমার ত্রিপুরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

দুই শিশু ও তাদের মাকে কি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, না কি মা দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে নিজে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন- এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। প্রতিবেশী পুরুষরাও ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। 

শনিবার সকালে নিজনগর গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় প্রতিবেশী খোর্শেদা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আব্দুল মজিদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, তার স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে আলাদা ঘরে থাকেন। শুক্রবার রাতে পারিবারিক কাজে পুত্রবধূ হাদিছাকে ডাকতে যান তার শাশুড়ি। ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর থেকে দরজা তাল দেওয়া। পরে পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে গিয়ে দেখেন, মিমের গলাকাটা লাশ খাটের উপর ও হাদিছার লাশসহ সিলিংফ্যান ছিঁড়ে মেঝেতে পড়ে আছে। তখন ওই রুমে ৭ মাস বয়সী মোজাহিদকে পাওয়া যাচ্ছিল না। 

ধর্মঘর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম কামাল জানান, মাধবপুর থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১১টায় একটি রুম থেকে মেয়ে মিমসহ মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই ঘরের পূর্ব পাশের অপর একটি রুম থেকে তালা ভেঙে মুজাহিদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

আব্দুল মজিদের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন রাত ৯টা পর্যন্ত আব্দুল মজিদ ধর্মঘর বাজারে তার দোকান মিম স্টোরে ছিল। বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে দোকান খোলা রেখেই তাড়াহুড়া করে চলে যায় সে। 

মাধবপুর থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবতী জানান, শিশু দু'টিকে হত্যা করা হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু হাদিছার মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এটি এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় শনিবার বিকেলে পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত চলছে।