সীতাকুণ্ডে এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব

একজন 'হ্যাঁ' বললে অন্যজন 'না'

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০১৮     আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সারোয়ার সুমন ও সেকান্দর হোসাইন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মহানগর লাগোয়া উপশহর সীতাকুণ্ড। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান পারত পক্ষে একজন অন্যজনের মুখ দেখেন না। কালেভদ্রে কোনো অনুষ্ঠানে একত্র হলেও কথা বলেন না। একজন 'হ্যাঁ' বললে অন্যজন 'না'। দুই নেতা দুই পথে হাঁটায় ব্যাহত হচ্ছে এখানকার উন্নয়ন কাজ। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আছে স্থানীয় রাজনীতিও। এমপি দিদারুল আলম তার পছন্দের লোকজন দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুনও তার আওতাধীন থাকা প্রকল্পের বরাদ্দ দিচ্ছেন নিজ অনুসারীদের। আগামী নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে এখানে এমপি হতে চান দিদার। তবে যে কোনো মূল্যে তাকে ঠেকিয়ে এমপি পদের মনোনয়ন চাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম আবুল কাসেম মাস্টার মারা যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদ নিয়েও টানাটানি চলছে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের। সিনিয়র হিসেবে সহসভাপতি মোহাম্মদ ইছহাককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলে দাবি করেন এমপি সমর্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ গোলাম মোস্তফাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকেন। দুই নেতা দু'জনকে সভাপতি মেনে আলাদাভাবে এলাকায় কর্মসূচি পালন করায় বিব্রত হচ্ছেন নেতাকর্মীরাও। দলীয় কোন্দল এতটা বেড়েছে যে, গত মাসে সীতাকুণ্ডে পথসভাও করতে পারেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন সীতাকুণ্ডের সাবেক এমপি মাস্টার আবুল কাসেমের সন্তান। উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতিও তিনি। সমকালকে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দিদারুল আলম হঠাৎ সীতাকুণ্ডের এমপি হওয়ায় তা মেনে নিতে পারেননি অনেকে। অথচ তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভোট বেশি পেয়েই তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। মামুন দাবি করেন, এমপি পদে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেখানেও তিনি ছিনিয়ে আনবেন বিজয়। কারণ তার সঙ্গে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৬৪ সদস্যের অন্তত ৪২ জন। অন্যদিকে, বর্তমান এমপি দিদারুল আলমও আগামী নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের টিকিট পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়রসহ কার্যনির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ নেতাই আছেন তার পক্ষে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও অধিকাংশ কাজ করছেন তার সঙ্গে। এমপির দাবি, আগে দলীয় কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজি হলেও তিনি এসে তা বন্ধ করেছেন। এলাকার উন্নয়ন করেছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচনের আগে শক্তভাবে দলীয় কোন্দল নিরসন করা না হলে সীতাকুণ্ডে এবার খেসারত দিতে হতে পারে আওয়ামী লীগকে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। আবুল খায়ের গ্রুপ, বিএসআরএম, কেএসআরএম, জিপিএইচ, পিএইচপি, মোস্তফা গ্রুপ, তাহের গ্রুপসহ দুই ডজন বড় শিল্প গ্রুপের কারখানা রয়েছে সীতাকুণ্ডে। প্রতি বছর সরকারকে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া জাহাজ ভাঙা শিল্পের শতাধিক ইয়ার্ড রয়েছে এই উপশহরে। এ আসনে সীতাকুণ্ড থানার পাশাপাশি আছে নগরীর আকবরশাহ ও পাহাড়তলী থানার একাংশও। ভৌগোলিকভাবে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ আসনে শীর্ষ দুই জনপ্রতিনিধির রেষারেষিতে ব্যাহত করছে উন্নয়ন কাজ।

বরাদ্দ নিয়ে টানাটানি :এমপি দিদারুল আলম ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর, বারৈয়ারঢালা, পৌরসভা, মুরাদপুর, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়নে টিআরের মাধ্যমে ৭৪০ টন গম ও এক কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। আবার ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় এক কোটি ৯৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ও ৭১৬ টন চাল বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।

আবার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কাজ। এলজিইডির অধীনেও চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ চলছে ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় অন্তত ২৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট।

উপজেলা চেয়ারম্যান অনুসারীদের অভিযোগ, এমপি তার পছন্দের অনুসারীদের দিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। যেখানে তার অনুসারী নেই, সেখানে তদারকি করেছেন নিজে। আবার এমপি অনুসারীদের অভিযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যান অসহযোগিতা করায় অনেক স্থানে উন্নয়ন কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্বিধা-বিভক্ত ইউপি চেয়ারম্যানরাও :উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এমপি কখনও ফোন পর্যন্ত করেননি। দলীয় নেতাকর্মীরা কোনো সময় তার বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি নিজের লোকজন দিয়ে তাদের হেনস্তা করতে দ্বিধা করেন না। উন্নয়নের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান সম্প্রতি রাজস্ব খাত থেকে তাকে ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানান মনির আহমেদ।

অন্যদিকে, এমপির অনুসারী বারৈয়ারঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, পুরো সীতাকুণ্ডে সমহারে উন্নয়ন করেছেন এমপি। মুখ দেখে তিনি কোনো বরাদ্দ দেননি। বরং উপজেলা চেয়ারম্যান দল ভারী করতে বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয় করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল।

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...