ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

নাসিরনগরে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রবাসীর মৃত্যু, ২ গ্রাম লকডাউন

নাসিরনগরে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রবাসীর মৃত্যু, ২ গ্রাম লকডাউন

প্রতীকী ছবি

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৫৯ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অতিমাত্রায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে ৩৭ বছর বয়সী এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর নিজের বাড়ি উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবলপুর ও শ্বশুরবাড়ি গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রাম ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসার পর তার শ্বশুরবাড়ি জেঠাগ্রামে থাকতেন। গত ১ এপ্রিল তার হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়। তবে ৪ এপ্রিল তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। ওইদিন তিনি চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তাকে রক্তের পরীক্ষা করতে বলেন। রক্তের পরীক্ষায় ওই প্রবাসীর শরীরে টাইফয়েড ধরা পড়ে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দিলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। পরে গত সোমবার রাত থেকে শাহা আলম অতিমাত্রায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানান। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ওই প্রবাসীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য বললেও তারা যাননি। মঙ্গলবার রাতে প্রবাসফেরত ওই ব্যক্তিকে একটি অটোরিকশায় করে স্ত্রী, বাবা ও শ্বশুর নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সে সময় রাস্তায় ওই প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরপর সিএনজি চালকসহ নিহতের পরিবারের লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে যান।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি গত ৪ এপ্রিল অতিমাত্রায় জ্বর নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। তাকে হাসপাতালে থাকতে বললেও পরিবারের লোকজন কথা শোনেনি। মঙ্গলবার হাসপাতালে আনার আগেই ওই প্রবাসীর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, লক্ষণ দেখে সন্দেহ হচ্ছে, ওই প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় বলেন, লক্ষণগুলো করেনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো। ইতিমধ্যে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সব সদস্যকে আইসোলেশনে রাখা হবে।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশরাফী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রবাসীর নিজের বাড়ি মুকবলপুর ও শ্বশুরবাড়ি জেঠাগ্রাম ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় আইইডিসিআরের নিয়ম মেনেই মরদেহটি ওই রাতেই মকবুলপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনের গেইটে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় ইমামতি করেন উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদের খতিব মুফতি মুখলেছুর রহমান।

আরও পড়ুন

×