ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

কিশোরগঞ্জে মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ মৃত্যু

কিশোরগঞ্জে মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ অফিস

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়ার গ্রামের বাড়িতে এসে মারা গেছেন সেলিম মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী। সোমবার ভোর রাতে মারা যান তিনি। তিনি ঢাকায় একটি মুদি দোকান চালাতেন। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন, তা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া জেলার পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর ও ভৈরবে করোনার লক্ষণ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। 

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়ায় মারা যাওয়া ব্যক্তির কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন। ওই ব্যক্তির শরীর থেকে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে এই প্রথম কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলো। 

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির করোনা পজিটিভ আসায় করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ও জাফরাবাদ এই দু’টি ইউনিয়নকে লকডাউন করা হয়েছে। তাছাড়া নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত ওই ব্যক্তির দাফনে জড়িত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে নেওয়াসহ তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলার পাকুন্দিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে সুমন আকন্দ (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নামাপুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে তার মৃত্যু হয়। তিনি নামাপুটিয়া গ্রামের আবুল হাসিম আকন্দের ছেলে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। মারা যাওয়ার পর করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, নামাপুটিয়া গ্রামটিকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বাজিতপুরে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় আমরু মিয়া (৫০) নামে এক রিকশাচালক মারা গেছেন। মঙ্গলবার বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। তাকে আইসোলেশনে নেয়ার পর পরই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের দিন থেকেই তার পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। 

বাজিতপুরের ইউএনও দীপ্তিময়ী জামান জানান, একজন করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে যেভাবে দাফন করা হয়, ওই ব্যক্তিকে একই প্রক্রিয়ায় দাফন করা হয়েছে। 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে নূরজাহান (১৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হওয়ায় করোনা সন্দেহে হাসপাতাল তালাবদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালে (প্রা.) তার মৃত্যু হয়। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ওই গৃহবধু জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে হাসপাতালটি তালাবদ্ধ করে দেন। ডাক্তার বুলবুল জানান, আইইডিসিআরের নির্দেশনা মোতাবেক রোগী করোনাভাইরাসে মারা গেছেন কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, এ মুহূর্তে হাসপাতালের আশপাশসহ সামনের রাস্তাটিতে লোকসমাগম সীমিত করা হয়েছে। আইইডিসিআরের গাইডলাইন অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×