ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

কেউ করেছেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার কেউ দিচ্ছেন ত্রাণ

কেউ করেছেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার কেউ দিচ্ছেন ত্রাণ

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৪৩ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৫:০৮

করোনা আতঙ্কের শুরুতে না থাকলেও এখন এলাকায় ফিরেছেন চট্টগ্রামের সব এমপি। জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেওয়ার পর এমপিরা ফিরেছেন এলাকায়। এখন অসহায় মানুষের পাশে আছেন তারা। কেউ দিচ্ছেন ত্রাণ। কেউ ঠিক করে দিচ্ছেন হাসপাতাল। কেউ তৈরি করছেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। আবার কোনো কোনো এমপি নিজ হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের ঘরে। এদিকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। তারা এখন চাচ্ছেন ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয়। একজনকে একাধিকবার না দিয়ে কিংবা দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য না দিতে এমপিদের কাছে দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নির্ভেজাল তালিকা করে অসহায় প্রত্যেক মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দিতে জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ নিতে বলছেন বিশিষ্টজনও।

সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, 'করোনার ভয়াবহতার পাশাপাশি মানবিক এক বাংলাদেশও দেখছি আমরা। এমপি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে। তবে ত্রাণকাজে সমন্বয় নেই। যে যার মতো করে ত্রাণ দিচ্ছেন। এতে এক লোক একাধিকবার পাচ্ছেন। আবার আরেক অসহায় উপোস থাকছেন।' চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, 'এমপিরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন সেটি উৎসাহব্যঞ্জক। তবে ত্রাণ বিতরণের কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতেও উদ্যোগ নিতে পারেন স্থানীয় এমপিরা। চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রকৃত অসহায়দের এলাকাভিত্তিক তালিকা নিতে পারেন। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক অসহায় মানুষের সহায় হতে পারেন তারা। প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে পারেন তারা শৃঙ্খলাও।' তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় ধারাবাহিকভাবে দিচ্ছেন ত্রাণ।

পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এরই মধ্যে অন্তত ১০ হাজার অসহায় মানুষকে ত্রাণ দিয়েছেন তিনি। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদও কয়েক হাজার নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিইও দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে সাড়ে আটশ' করোনা শনাক্তের কিট নিয়ে এসেছেন। জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত করেছেন ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড। ত্রাণ দিয়েছেন কয়েক হাজার নিম্নবিত্ত মানুষকে। আবার মধ্যবিত্তদের সাহায্য করতে খুলেছেন জরুরি সেবা কেন্দ্র। কেউ ফোন করলে পরিচয় গোপন রেখে এই কেন্দ্র থেকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাবার।

একসঙ্গে ১০ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে ত্রাণ দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। তবে ব্যতিক্রমী এক কাজ করেছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এমএ লতিফ। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে নির্বাচনী এলাকায় গড়েছেন তিনি শত শয্যার পাঁচটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। এসব শয্যায় থাকার জন্য আলাদা আলাদা বেড, মশারি, জুতা, গামছা-স্যান্ডেল এবং খাওয়ার জন্য প্লেট, বাটি ও গ্লাস সরবরাহ করেছেন তিনি। রোগীর উপযোগী খাবার সরবরাহ করছেন 'এমপি কিচেনস' থেকে। সীতাকুণ্ডের এমপি দিদারুল আলম ও সন্দ্বীপের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন নিজ হাতে। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হাজার হাজার মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছেন পটিয়ার এমপি শামসুল হক চৌধুরীও। বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিন চৌধুরীও ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন হাজারো মানুষের পাশে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ত্রাণ দিতে এসে বলেন, 'দলীয় লোক কিংবা ভোটার বিবেচনা করে ত্রাণ দেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত অসহায় যারা, হতদরিদ্র যারা, তাদের হাতে ত্রাণ তুলে দিতে হবে সমন্বিতভাবে।' ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রসঙ্গে বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এমপি এমএ লতিফ বলেন, 'করোনা সন্দেহে কেউ যাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে অবহেলার পাত্র না হয় এবং একজন থেকে এটি যাতে পরিবারের অন্যদের সংক্রমণ না করে সেজন্য দেড়শ' শয্যার অস্থায়ী পাঁচটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়ে তুলেছি। সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বশীলদের পরামর্শ মেনেই এসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করেছি।' ত্রাণ দিলেও চট্টগ্রামের অন্য কোনো এমপি তার সংসদীয় আসনে গ্রহণ করেননি এমন কোনো উদ্যোগ। সন্দ্বীপের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, 'করোনার কারণে শুরুতে এলাকাবাসীর কাছে আসতে পারিনি। তবে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শত শত মানুষকে ত্রাণ দিয়েছি। অসহায় মানুষদের ত্রাণ আমি নিজে পৌঁছে দিচ্ছি ঘরে ঘরে গিয়ে।'

আরও পড়ুন

×