ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

আশুগঞ্জ সার কারখানা

গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

ফাইল ছবি

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ০২:৪০ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ০২:৪২

ওভারহোলিং (এসএনসি বয়লারের টিউবসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও মেরামত) শেষে গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে স্টার্টআপের অপেক্ষায় রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানা। তবে উৎপাদন বিভাগে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরতে পারছে না কারখানাটি। এ নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে।

জানা গেছে, কারখানায় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ওভারহোলিংয়ের কাজের মান যাচাইও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিসিআইসির নিয়ন্ত্রনাধীন কারখানাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা বোনাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচিও পালন করেছেন শ্রমিকরা।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করতে বিসিআইসিসহ গ্যাস বিতরণকারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাখরাবাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে চিঠির ব্যাপারে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

ওভারহোলিং কাজের জন্য গত ১ মার্চ থেকে ৯০ দিনের জন্য সার কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে উৎপাদনে ফেরার লক্ষ্যে চলতি বছর জুনে ওভারহোলিং শেষ করা হয়। কিন্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কারখানাটির স্টার্টআপ, ওভারহোলিং কাজ যাচাই বা উৎপাদনে ফিরতে পারছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, চলতি অর্থবছর বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ কারখানার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সাড়ে ৩ লাখ টন। কারখানা বন্ধ থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। এতে শ্রমিক-কর্মচারিরা উৎপাদন বোনাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই তারা দ্রুত কারখানার উৎপাদন বিভাগে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান।

কারখানার সিবিএ সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দৈনিক এক হাজার থেকে ১২শ টন ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে কারখানা বন্ধ থাকলে বিসিআইসর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। এতে করে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুনীল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে সম্মত হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওভারহোলিং শেষে তা যাচাইকরণে কারখানা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা জরুরি। এজন্য গ্যাস দিতে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের কোন সারা পাননি তারা।

আশুগঞ্জের ডিজিএম মো. জাহিদ রেজা জানান, এটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।

আরও পড়ুন

×