ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না কৃষক। ছবি-সমকাল

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৩:৫৩ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৩:৫৩

পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বকশীগঞ্জের চাষিরা। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না তারা। ক্ষেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেও তাপদাহ ও বৃষ্টি না থাকায় পানি নেই অধিকাংশ খাল-বিলে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় হতাশ চাষিরা।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে বেশির ভাগ জমির পাট কাটতে পারছেন না চাষিরা। উপজেলার সদর ইউনিয়ন, নিলাক্ষিয়া, মেরুরচর, বগারচর, সাধুরপাড়া, বাট্টাজোড় ও কামালপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কাটার উপযোগী পাট এখনও জমিতেই দাঁড়িয়ে আছে। পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না কৃষক। অনেকেই আবার পাট কেটে জমিতেই ফেলে রেখেছেন বৃষ্টির আশায়। এ ছাড়া বন্যার পানির আশায় পাট না কেটে ক্ষেতেই রেখে দিচ্ছেন অনেকে। আবার যারা কিছু পাট কেটেছেন, তাদের অনেকেই অটোভ্যান, ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও মহিষের গাড়িতে করে দূরে নিয়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অল্প পানিতে পাট পচানোর কারণে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে আঁশ।

মেরুরচর গ্রামের কৃষক নওশেদ আলী বলেন, ‘এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে; কিন্তু পানি না থাকায় তা কাটতে পারছি না। বৃষ্টি না থাকায় রোদে পুড়ে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাট। এতে অনেক লোকসান হবে।’

জাগিরপাড়া গ্রামের কৃষক আজাহার আলী ছয় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলের কোথাও পানি নেই। পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না তিনি। ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাঁর পাট।

বাট্টাজোড় এলাকার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এবার বৃষ্টির পরিমাণ অনেক কম। বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। অন্য বছর এ সময় পানিতে টইটম্বুর থাকে খাল-বিল। এ বছর কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। খালে সামান্য বৃষ্টির পানি জমছে। উপায় না পেয়ে সেখানেই পাট জাগ দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকার কথা জানান তিনি।

মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্য, গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় চলতি বছর পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু পানি না থাকায় পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁর এলাকার চাষিরা।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি নেই। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন কৃষক। তাদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×