ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

স্বীকৃতির আশায় জীবন সায়াহ্নে

স্বীকৃতির আশায় জীবন সায়াহ্নে

বাড়ির উঠানে ঝর্ণা দিও - সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

বাড়ির উঠানে লাঠি হাতে চেয়ারে বসে আছেন ঝর্ণা দিও (৭৬)। পা দুটি ফোলা। ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেন না। সাংবাদিক আসার কথা শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। বয়সের ভারে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। তাঁর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে চাইলে অস্পষ্ট স্বরে বলেন, ‘কেও আমাগরে খুঁজ নেয় না। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা আমার সামনে থাইকা স্বামীরে ধইরা নিয়া মারছে। আমারে নির্যাতন করছে।’ এটুকু বলে কেঁদে ফেলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোহাগপুর গণহত্যায় প্রথম নিহত হন ঝর্ণা দিওর স্বামী রমেন্দ্র রিছিল। সে সময় হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন ঝর্ণা দিও। একই গ্রামের নির্যাতিত অন্যরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও স্বীকৃতি মেলেনি রমেন্দ্র রিছিল ও ঝর্ণা দিওর। স্বীকৃতির আশায় থাকতে থাকতে জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে গেছেন বিধবা ঝর্ণা দিও। এখন বার্ধক্যজনিত রোগে জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। টাকার অভাবে পরিবার তাঁর চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না। মৃত্যুর আগে স্বামী ও নিজের স্বীকৃতি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ঝর্ণা দিও।

তাঁর মেয়ে লিন্ডা দিও জানান, তাঁর মা জরায়ু ক্যান্সারে ভুগছেন। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিন মাংসসহ ভালো ভালো খাবার খেতে চান তাঁর মা। কিন্ত টাকার অভাবে তা দিতে পারেন না। সেবাশুশ্রূষার জন্য চাকরি ছেড়ে বাড়িতে মায়ের পাশে থাকছেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার মিলে সোহাগপুর গ্রামের ১৮৭ মানুষকে হত্যা করে। রমেন্দ্র রিছিলকে মেরে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে হানাদার বাহিনী। এ সময় স্বামীহারা হন ৬২ নারী। তাদের মধ্যে বেঁচে আছেন ২২ জন। নির্যাতনের শিকার ১৪ নারীকে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকা তৈরির সময় ঝর্ণা দিও মেয়ের সঙ্গে রাজধানীতে বসবাস করায় তাঁর স্বামী রমেন্দ্র রিছিলের কথা কেও মনে রাখেননি। পরে ২০২১ সালে স্বামী ও নিজের স্বীকৃতি চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রাণালয়ে আবেদন করেন ঝর্ণা দিও।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের ভাষ্য, সোহাগপুর গণহত্যায় সর্বপ্রথম শহীদ হন রমেন্দ্র রিছিল। এ সময় নির্যাতনের শিকার হন তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা দিও। কিন্তু আজও স্বীকৃতি পাননি তাঁরা। স্বীকৃতিটা পেলে মরেও শান্তি পাবেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, ঝর্ণা দিওর বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। রমেন্দ্র
রিছিলের নামও শহীদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×