ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে নৈরাজ্য

যাত্রীদের ভোগান্তি, দেখার কেউ নেই

যাত্রীদের ভোগান্তি, দেখার কেউ নেই

যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর পাশাপাশি সড়কে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকছে বাস, টেম্পো, হিউম্যান হলার

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

কোন রুট দিয়ে কোন গাড়ি চলবে, তা নির্ধারণ করে দেয় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দেওয়া হয় রুট পারমিট। তবে সে অনুযায়ী চলাচল করছে না চট্টগ্রামের গণপরিবহনের বড় একটি অংশ। আবার যেখান থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা সেখান থেকে ছাড়ছে না, যাচ্ছে না নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্তও। মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

এদিকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার পরও নগরীকে যানজটমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর পাশাপাশি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকছে বাস, টেম্পো, হিউম্যান হলার। সঙ্গে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে যত্রতত্র পার্কিং। সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরনগরীর গণপরিবহনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও দেখার কেউ নেই।

আরটিসিরি তথ্য মতে, নগরীতে বাস-মিনিবাস চলাচলের জন্য ১১টি, হিউম্যান হলারের জন্য ১৬টি, টেম্পোর জন্য ১৮টি রুট নির্ধারিত রয়েছে। তবে সে অনুযায়ী চলছে না অনেক গাড়ি। যেখান থেকে ছেড়ে যে গন্তব্যে যাওয়ার কথা, তা মানা হচ্ছে না। এক রুটের বাস আরেক রুটে ঢুকে পড়ছে। এ কারণে অনেক রুটে প্রয়োজন মতো গাড়ি পাওয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ১১ রুটের মধ্যে ১০টিতেই নির্ধারিত স্থান থেকে বাস-মিনিবাসগুলো চলছে না। একইভাবে শর্ত ভেঙে ইচ্ছা মতো চলাচল করছে হিউম্যান হলার ও টেম্পোও। ১৬ রুটের মধ্যে মাত্র ছয়টি রুটে শর্ত মেনে এগুলো চললেও বাকিগুলোয় নিয়ম মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত ১৮টির মধ্যে শর্ত মেনে টেম্পোগুলো চলছে মাত্র দুই রুটে। একটি রুটে কোনো টেম্পোই চলে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পুলিশকে ম্যানেজ করে তাদের সুবিধা মতো স্থান থেকে গাড়ি ছাড়ে এবং যাত্রী নামিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নৈরাজ্য চললেও নির্বিকার দায়িত্বশীলরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত বেলাল বলেন, আমরাও চাই আরটিসির রুট পারমিট অনুযায়ী বাস চলুক। কিন্তু পরিবহন মালিকদের কয়েকটি সংগঠনের কারণে এটা হচ্ছে না।

নগরীর ভাটিয়ারি থেকে অলংকার-দেওয়ানহাট-পাহাড়তলী হয়ে পুরাতন রেলস্টেশন পর্যন্ত হিউম্যান হলার চলাচলের জন্য ১৬ নম্বর রুটটি নির্ধারণ করা। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী কম থাকার অজুহাতে এ রুটে কোনো হিউম্যান হলার চলাচল করে না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, ‘অনেক সময় পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত না গিয়ে ইচ্ছে মতো স্থানে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। লোকবলের অভাবের কারণে সব জায়গায় তো ট্রাফিক পুলিশ থাকে না। তার পরও আমরা এটা পুরোপরি বন্ধে কাজ করছি।’

মোড়ে মোড়ে দুর্ভোগ

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোয় অস্বাভাবিক যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। বাস-টেম্পো মোড়ে মোড়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড় করিয়েও রাখা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হলেও যেখানে থামার কথা নয়, সেখানেও বাস থামানো হচ্ছে।

নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদ সড়ক। এই সড়কের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, টাইগারপাস মোড়, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ চৌমুহনী ও আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়ে সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। বিকেলে অফিস ছুটির পর এসব পয়েন্টে যানবাহনগুলো স্থবির হয়ে যায়। সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে বাড়ি ফিরতে হয় যাত্রীদের।

অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘মোড়ে মোড়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য আমরা স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর বাইরে গিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×