ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত চা বেচা ছেলেটির

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত চা বেচা ছেলেটির

রাসেল শেখ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

বাবার সঙ্গে দোকানে চা বিক্রি করা ছেলেটি পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ। তাঁর নাম মো. রাসেল শেখ। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের যদুবয়রা পুরাতন বাজার এলাকার মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো তিনি।

রাসেল গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮১০তম হয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। পরে মাইগ্রেশন পদ্ধতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

জানা গেছে, রাসেলের বাবা একসময় তাঁতের কাজ করতেন। করোনার সময়ে বন্ধ হয়ে যায় তাঁত। পরে তিনি যদুবয়রা পুরাতন বাজারে ছোট্ট পরিসরে চায়ের দোকান দেন। দোকানের আয়ে তাদের পরিবার কোনোরকমে চলে। তাই রাসেল পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করেন।

রাসেল যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০২২ সালে কুমারখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পান।

রাসেল শেখ বলেন, ‘বাবার সঙ্গে দোকানে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছি এতদিন। এখন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। সেখানে থেকেই পড়াশোনা করতে চাই। এতে অনেক টাকা দরকার। কিন্তু বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। ধার করা পাঁচ হাজার টাকায় অনলাইনে ভর্তি নিশ্চিত করেছি।’

তাঁর বাবা রেজাউল ইসলাম জানান, তাঁর চায়ের দোকানে দিনে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে সংসার চালাবেন নাকি ছেলেকে ভার্সিটিতে পড়াবেন। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন।

যদুবয়রা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রাসেল অত্যন্ত মেধাবী। খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করে এ পর্যন্ত এসেছে। পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

আরও পড়ুন

×