ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাহাড়ধস

চাপা পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল গাড়ি

চাপা পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল গাড়ি

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটি চলে আসে সড়কে। এতে একপাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে গাড়ি। শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকার ছবি-সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো, বান্দরবান ও রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকার সিডিএ অ্যাভিনিউয়ে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বর্ষণ চলাকালে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে; গাছপালা উপড়ে চলে আসে রাস্তায়। এ সময় অল্পের জন্য ধসে চাপা পড়া থেকে রক্ষা পায় বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদগামী একটি চলন্ত মাইক্রোবাস। গাড়িটির ভেতরে শুধু চালক ছিলেন। পাহাড় ধসের এ ঘটনায় সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের এক পাশে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে সড়ক পরিষ্কার করলে যান চলাচল শুরু হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, টাইগারপাসে একটি পাহাড়ের একাংশ ধসে ছিটকে আসা মাটিতে একটি মাইক্রোবাস আটকা পড়ে ছিল। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর ধসে পড়া মাটি সরানো সম্ভব হয়। এরপর সড়কে শুরু হয় যান চলাচল।

চট্টগ্রাম শহরে মাঝারি বা একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগারপাস এলাকার বাটালিহিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে মারা যায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ ১৭ জন।

একই দিন সকালে বান্দরবান-থানচি সড়কের নীলগিরি ও জীবন নগরের মধ্যবর্তী স্থানেও পাহাড় ধসে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। সকালে থানচি যাওয়ার পথে নীলগিরি সংলগ্ন ৪৫ কিলোমিটার কাটা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে রাস্তার ওপর চলে আসে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচির সড়ক যোগাযোগ। থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিমলিডার তরুণ জ্যোতি বড়ুয়া জানান, ভোরে অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের নীলগিরি ও জীবন নগরের মাঝামাঝি এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড় ধসে অনেক বড় একটি পাথর পড়ে। সকাল থেকে থানচি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে পাথরটি সরালে দুপুর সাড়ে ১২টার পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

এ ছাড়া পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে গতকাল সকাল থেকে মাইকিং করে সতর্ক করছে বান্দরবান পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন।

এদিকে গত দুই দিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙামাটি শহরে সতর্কতা জারি হয়েছে। শহরের ২৯টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের বিকেল ৫টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের যেসব স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো– রিজার্ভ বাজার এলাকার চম্পানির মারটিলা, চেংগিমুখ, আব্দুল আলী একাডেমি সংলগ্ন ঢাল, এসপি অফিস সংলগ্ন ঢাল, মাতৃমঙ্গল এলাকা ঢাল, পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন ঢাল। তবলছড়ি এলাকার এডিসি হিল সংলগ্ন রাস্তার ঢাল, দুদক অফিস সংলগ্ন ঢাল, ওয়াপদা কলোনির ঢাল, স্বর্ণটিলা, বিএডিসি পাহাড়ের ঢাল। বনরূপা এলাকার দেওয়ান পাড়া পাহাড়ের ঢাল, কাঁঠালতলী মসজিদ কলোনি ঢাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল, আলম ডক পাহাড়ের ঢাল, গর্জনতলী মুখ, চম্পকনগর এলাকার পাহাড়ের ঢাল, পাবলিক হেলথ এলাকার পাহাড়ের ঢাল। ভেদভেদী এলাকার মুসলিম পাড়া পাহাড়ের ঢাল, রাজমনিপাড়া পাহাড়ের ঢাল, পোস্ট অফিস কলোনি, নতুন পাড়া, শিমুলতলী, রূপনগর, বিদ্যানগর, লোকনাথ মন্দির এলাকা, কিনারাম পাড়া, সিলেটি পাড়া, আলুটিলা ও আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল। এসব এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

গতকাল সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান ঝুঁকিপূর্ণ এসব কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মারুফ আহম্মদ, কোতোয়ালি থানার ওসি আরিফুল আমিনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ইতোমধ্যে পাহাড়ধস থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এ ছাড়া রোভার স্কাউট, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অনেক সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে।

আরও পড়ুন

×