বানেশ্বরের দগ্ধ সেই গৃহবধূকে ঢামেকে স্থানান্তর

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর বানেশ্বরে শিশু সন্তানের সামনে দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ জেরিন আক্তারকে (২৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার ছাড়পত্র দেন বার্ন ইউনিটের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. আফরোজা নাজনীন আশা।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেরিন আক্তারকে রামেকের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। তার শরীরের ৯ শতাংশ পুড়ে গেছে। পুরো মুখ, গলা এবং হাতেরও কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে জেরিন আক্তারের মা ও স্বামী তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেফার করা হয়। তারা রাত ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

জেরিন আক্তারের স্বামী মিজানুর রহমান একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মচারী। তিনি বানেশ্বরে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন জেরিন আক্তার। পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের কাচারি মাঠ সংলগ্ন ভূমি অফিসের পেছনে শিশু সন্তানের সামনেই তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

আহত জেরিনের স্বামীর বাড়ি সিংড়া উপজেলায়। তার স্বামী মিজানুর রহমান জানান, জেরিন আক্তার রাজশাহী কলেজের অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাদের বিয়ের ৯ বছর হয়েছে। চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তাদের সংসারে। সকালে তার স্ত্রী বোরকা পরে মেয়েকে নিয়ে আরচার্ড একাডেমি স্কুলে যাওয়ার পথে বোরকা পরে থাকা কেউ একজন পেট্রোল ঢেলে জেরিনের শরীরে আগুন দেয়। পরে এলাকাবাসীর মধ্যমে খবর পেয়ে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হয়।

চার বছরের শিশু সন্তান মাশফিয়া রহমান তার বাবাকে জানিয়েছে, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় একজন তার মায়ের মুখে পানির মতো কিছু দিয়ে দেয়। তারপর লাঠি দিয়ে মুখে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় জেরিন চিৎকার দিলে তারা পালিয়ে যায়।

জেরিনের মা জেসমিন আক্তার জানান, তার মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করত। পরে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়েছে। ঢাকায় ধানমণ্ডির রায়ের বাজার এলাকায় থাকাকালে এক ছেলের সঙ্গে ফেসবুকে কথা হতো। পরের দিকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। তবে সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি-না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বানেশ্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক জানান, ভোর ৭টার দিকে এক নারীর চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন একজন বোরকা পরা নারীর শরীরে আগুন জ্বলছে। এ সময় তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চার বছরের শিশু ভয়ে কাঁপছে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় আরও কয়েকজন প্রতিবেশী বেরিয়ে আসেন। তারা পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনাস্থলে দুটি বোতল, একটি হাতুড়ি ও একটি কাঠের চেলা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বোতলে করে পেট্রোল এনে ওই নারীর শরীরে ঢেলে কাঠের চেলা দিয়ে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল আহমেদ জানান, এ ঘটনার কারণ জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।