মূল আসামি সালেকের খবর জানেন না বাবা

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর নিরপরাধ জাহালম মুক্তি পান গত রোববার রাতে। কিন্তু মূল আসামি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামের আবু সালেক এখনও অধরা। পরিবার বলছে, বছরখানেক ধরে সে নিরুদ্দেশ। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনও তাকে দেখেনি। নিজের বাড়িতেও কোনো যোগাযোগ নেই তার।

আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা রয়েছে। কিন্তু চেহারায় মিল থাকায় আবু সালেকের বদলে এত বছর জেল খাটতে হয় জাহালমকে। নরসিংদীর পাটকল শ্রমিক জাহালমের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে।

সালেকের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, নিজের টাকায় বাড়ি করেছি। এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় পাড়ি জমায় সালেক। সংসারে একমাত্র ছেলে হওয়ায় শাসন মানত না সে। বেপরোয়া জীবনযাপন করা সালেক ঢাকা থাকলেও পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখেনি। এখন সে কোথায় আছে, আমরা তা জানি না। শুনেছি ঢাকায় ভোটার আইডি কার্ড তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। আবদুল কুদ্দুস বলেন, সালেক অপকর্ম করলে শাস্তি পাবে। আত্মসাৎ করা টাকায় সে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সম্পদ করেছে।

সালেকের গ্রামের আলিশান বাড়িতে বাবা-মা, বোন থাকলেও সারাক্ষণই বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ থাকে। তেমন কেউ যায় না ওই বাড়িতে।

আবদুল কুদ্দুসের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে তৃতীয় আবু সালেক। হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর সালেক দু'বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে জেলার রানীশংকৈলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার করার পর বিচ্ছেদ হয়। স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় তাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছে সে।

গ্রামের রশিদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ টাকার মানুষ হয়ে যায় সালেক। বাড়িঘর কাঁচা থাকলেও পরে পাকা করে ফেলে সে। বোনের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টেলিভিশনের শোরুম দেয় সালেক। সেখানে বেশ কিছু জমিও কিনেছে সে।

বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিনা দোষে জাহালমের হাজতবাস করার খবরে আবু সালেকের নিন্দা জানিয়ে তার শাস্তি দাবি করেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সিঙ্গিয়া গ্রামবাসী।

সদর উপজেলার বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর-এ আলম ছিদ্দিকি মুক্তি বলেন, আবু সালেক খারাপ প্রকৃতির এবং প্রতারক মানুষ। তার বিরুদ্ধে এলাকাতেও ছোট-বড় অপরাধের নালিশ আছে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলার সত্যতা আছে বলে ধারণা করছেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি সালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবু সালেকের ১০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ভুয়া ঠিকানাগুলোর একটিতেও জাহালমের গ্রামের বাড়ির কথা উল্লেখ নেই। রয়েছে পাশের গ্রামের ভুয়া ঠিকানা। কিন্তু সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় জাহালমের জীবনে।

পরে নির্ধারিত দিনে দুই ভাই হাজির হন দুদকের ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেদিন জাহালম বলেছিলেন, 'স্যার, আমি জাহালম। আবু সালেক না। আমি নির্দোষ।' পুলিশের কাছেও তিনি একই কথা বলেন।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর ঘোড়াশালের মিল থেকে জাহালমকে আটক করা হয়। জাহালম তখন জানতে পারেন, তার নামে দুদক ৩৩টি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড় অপরাধী।

বিষয় : সালেক দুদক আসামি ঠাকুরগাঁও