বাস কেড়ে নিল তিন বন্ধুর প্রাণ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন বন্ধু- সমকাল

গাজীপুরে বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস কেড়ে নিল মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধুর প্রাণ। রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নগরীর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ইটাহাটা নামক স্থানে ঘটে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা। 

নিহতরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ মৌচাক এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে জাকিরুল ইসলাম জনি (২১), একই এলাকার মৃত মোজাহার মিয়ার ছেলে মাহফুজুর রহমান সাকিব (২০) ও নুর হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাজা (২১)।

নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বাসন থানার ওসি মুক্তার হোসেন জানান, সরস্বতী পূজায় কলেজ বন্ধ থাকায় এদিন সকালে মাহফুজুর রহমান সাকিব তার মোটরসাইকেলটি সার্ভিসিংয়ের জন্য দুই বন্ধু জাকিরুল ইসলাম জনি ও রাশেদুল ইসলাম রাজাকে নিয়ে রওনা দেন গাজীপুরের চৌরাস্তার দিকে। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকার ইটাহাটা নামক স্থানে এলে একটি যাত্রীবাহি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মারা যান।

নিহতদের মধ্যে জনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আর সাকিব ভাষা শহীদ আব্দুর জাব্বার আনসার ভিডিপি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এবং রাজা অধ্যাপক শাহাজাহন আলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। 

ওসি আরও জানান, নিহতদের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পরিবারে মাতম: রোববার দুপুরে দক্ষিণ মৌচাকের ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মসজিদে পাশাপাশি তিনটি কফিন। হাসপাতাল থেকে লাশ এলে এই কফিনে করেই একসঙ্গে তিন বন্ধুর দাফন করা হবে। নিহত তিনজনরে বাড়ি থেকে ভেসে আসছে কান্নার শব্দ। নিহত জনির বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, তার মা জহুরা বেগম ছেলের শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলে উপস্থিত লোকজনের কাছে জানতে চাচ্ছেন তার ছেলে ফিরে এসেছে কি-না। ওই বাড়ির ৫০ গজ পশ্চিমে নিহত রাশেদুল ইসলাম রাজার বাড়িতে একই দৃশ্য। রাজার দুই বোনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কলেজের সহপাঠীসহ বাড়িতে মানুষের ভিড়। রাজার মা সালেহা বেগম একটি ঘরের দেওয়ালে হেলান দিয়ে আছেন। বাকরুদ্ধ সালেহা বেগমের দুই চোখ গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। বাবা নুর হোসেন দক্ষিণ মৌচাক গ্রামের মুদি দোকানদার। কান্নাজড়িক কণ্ঠে বলেন, নিজে দরিদ্র হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

একবাড়ি পরেই পশ্চিম পাশে নিহত মাহফুজুর রহমান সাকিবের বাড়িতে গ্রামবাসী ছাড়া স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে মা শিউলি আক্তার মেয়ে সুষমাকে নিয়ে ছুটে গেছেন হাসপাতালে। সাকিবের বাবা এক বছর আগে মারা যান।

শিউলির ওপর দায়িত্ব পড়ে দুই সন্তানকে মানুষ করার। আদরের ছেলেকে একটি পুরনো মোটরসাইকেল কিনে দেন। সেটি দিয়ে সে কলেজে যাওয়া-আসা ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াত। এই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়াই কাল হলো শিউলির।

বিষয় : সড়ক দুর্ঘটনা