বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন নারীসহ ৩৪ সাঁতারু

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৯      

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিচ্ছেন এক প্রতিযোগী- সমকাল

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন একসঙ্গে ৩৪ জন সাঁতারু। দুই নারী, এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ও ডাকসুর নবনির্বাচিত এক সদস্যও রয়েছেন তাদের মধ্যে। তবে সবচেয়ে কম সময়ে এটি পাড়ি দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ড সাঁতরে ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেন তিনি। এ সময় দ্বীপের বাসিন্দারা ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান তাকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে বাংলা চ্যানেলে সাঁতার শুরু করেন ৩৪ জন সাঁতারু।

আয়োজক ও দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্বীপে প্রথম পৌঁছেন ২৬ বছর বয়সী বগুড়ার ছেলে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। এটা পাড়ি দিয়ে তিনি ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। সবচেয়ে কম সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার গৌরবও অর্জন করেন তিনি। সাজ্জাদ ছাড়াও একই গ্রামের মোহাম্মদ নয়ন ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিটে পাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। তারা দু'জনই বগুড়া সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ৩ ঘণ্টা ৪৪ মিনিটে পাড়ি দিয়ে তৃতীয় হয়েছেন সাইফুল ইসলাম রাসেল। ধাপে ধাপে বিকেল ৫টায় বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছান সব সাতারু। তাছাড়া ৩৪ সাঁতারুর দলে যে দু'জন নারী রয়েছেন তারা হলেন মিতু আকতার ও সোহাগী আকতার। মিতু আকতার প্রথম বাংলাদেশি নারী, যিনি এর আগেও বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন। বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতার এ দলে রয়েছেন গত ১৩ বার পাড়ি দেওয়া সাঁতারু লিপটন সরকার। এ ছাড়া মোহাম্মদ শোয়াইব নামে ৬৯ বছরের এক প্রতিবন্ধী এবং সাইফুল ইসলাম রাসেল নামে ডাকসুর নবনির্বাচিত এক সদস্যও রয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া সাজ্জাদ (মাঝে) 

দ্বীপে পৌঁছে প্রথম হওয়া সাজ্জাদ বলেন, 'বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছি আমি। আমার টার্গেট ছিল যে কোনো মূল্যে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে জয়ের স্বাদ নিতে হবে আমাকে। আল্লাহ আমার সেই আশা পূরণ করেছেন। আগামীতে আরও বড় বড় অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিতে চাই। এ জন্য সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করছি।'

আয়োজকরা জানান, পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে এ সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে উৎসাহিত করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করার লক্ষ্যে গত ১৩ বছর ধরে এই আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মানসিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে সুস্থ খেলাধুলা এবং অ্যাডভেঞ্চার ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও অফরোড বাংলাদেশের আয়োজনে ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন করপোরেশন ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্র্যান্ড 'ফরচুন' এ সাঁতার প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, 'সাজ্জাদ নামে একজন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম দ্বীপে পৌঁছেছেন। এরপর বিকেল ৫টার দিকে আস্তে আস্তে বাকিরাও পৌঁছেন।'

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়। মূলত এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার প্রয়াত কাজী হামিদুল হক। তার তত্ত্বাবধানেই প্রথমবারের মতো ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার এবং সালমান সাঈদ ২০০৬ সালে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। এরপর প্রতিবছরই এ আয়োজন হচ্ছে। আস্তে আস্তে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাচ্ছে এটি।

বিষয় : বাংলা চ্যানেল টেকনাফ