সিলেটে টিলা কেটে বসতি সম্প্রসারণ

ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

মুকিত রহমানী, সিলেট

জায়গাটিকে লন্ডনি টিলা নামে ডাকবে, এমন মানুষ এখন খুব কমই আছে সিলেট সদরের টুকেরবাজার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে। সবাই এখন এটিকে চেনে জাহাঙ্গীরনগর আবাসিক এলাকা নামে। টিলার মালিক জায়গা বিক্রি করছেন। স্বল্পমূল্যে জায়গা কিনে সেখানে বাড়ি বানাচ্ছেন গরিব ক্রেতা। এভাবে টিলাকে ঘিরে সম্প্রসারিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এরই মধ্যে প্রায় ১০ একর আয়তনের টিলাটির বেশির ভাগ স্থানে গড়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডের বসতবাড়ি। এগুলোতে বাস করছে শতাধিক পরিবার। কয়েকটি পাকা বসতবাড়িও রয়েছে টিলার পাদদেশে। গত চার-পাঁচ বছরে স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি এসব বাড়ি গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই এসব ব্যাপারে।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, টিলায় বসবাসকারীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা ঝুঁকিকে ঝুঁকি মনে করে না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলাপ করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের ধারণা, কয়েক বছরের মধ্যে পুরো টিলাই হয়ে উঠবে সম্প্রসারিত জাহাঙ্গীরনগর। যদিও এখানে প্রত্যেককেই থাকতে হচ্ছে ঝুঁকির ভেতর।

টিলার একাংশের চূড়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন মাসুম নামে এক ব্যক্তির পরিবার। তাদের পাশের অংশে রয়েছেন রফিক, মন্নান, শাহেদ, রুবিনা ও হায়দররা। যেকোনো সময় টিলা ধসে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে টিলার ওপরের ও চারপাশের শতাধিক মানুষের। কিন্তু কম দামে জায়গা কিনে বসবাসের সুযোগ থাকায় এ ঝুঁকি আমলে নিচ্ছে না কেউ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক সমকালকে জানান, ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় বাস করছেন। টিলায় ৩ শতক জায়গা কিনে ঘর বানিয়েছেন কয়েক বছর আগে। এভাবে থাকার ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থাকতে কষ্ট হলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। টিলা তো ধসে পড়ছে না।

টুকেরবাজার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুর রহমান শফিক জানান, জাহাঙ্গীরনগর তার ওয়ার্ডের মধ্যে। এখানে ভোটার রয়েছেন হাজারখানেক। বসতভিটা রয়েছে দুই-আড়াইশ'। এরমধ্যে টিলা ও টিলাকে ঘিরে আছে দেড়শ'র মতো পরিবার। তিনি জানান, টিলায় যারা বসবাস করছে, তাদের অধিকাংশই দিনমজুর। কম টাকায় বসতি গড়ছে। মেম্বার শফিক দাবি করেন, খুব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কয়েকটি পরিবারকে তিনি সরিয়েও দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ষাটের দশকে স্থানটি লন্ডনি টিলা নামে পরিচিতি পায়। ১৯৬৫ সালে এটি কেনেন নগরীর সুবিদবাজারের বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী দিলওয়ার খান। তার বাবাও লন্ডনি ছিলেন। এ কারণে এটির নাম 'লন্ডনি টিলা' হয়ে যায়। পরে এর মালিকানা নিয়ে স্থানীয় আলী বাহার চা-বাগান ও মালনিছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার মামলা শুরু হয়, যা এখনও চলছে। নব্বইয়ের দশকে দিলওয়ার খান তার ছেলে জাহাঙ্গীরের নামে জায়গাটির নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এর আগে এটির নাম ছিল ব্রাহ্মণছড়া। এ প্রসঙ্গে দিলওয়ার খানের ছেলে কবির খান টিপু সমকালকে বলেন, প্রায়ই টিলার জায়গা বিক্রি করা হচ্ছে। যারা জমি কিনছে, তাদের আমরা টিলা কাটতে বলিনি। কিন্তু গরিব লোকজন জায়গা কিনে টিলা কেটে বাড়ি বানাচ্ছে। অতীতে এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে তাদের নিষেধও করা হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।