জোড়া খুনের মামলা: ১৩ জনের যাবজ্জীবন, এক আসামির পলায়ন

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯      

ফরিদপুর অফিস ও নগরকান্দা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নটখোলা গ্রামে গঞ্জর খাঁ ও মোশা মোল্লা নামে দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন জেলার বিশেষ জজ আদালত। বুধবার বিচারক মতিয়ার রহমান এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মান্নান খাঁ, সুরমান খাঁ, মাজেদ খাঁ, ওয়াজেদ খাঁ, রাশেদ খাঁ, সিদ্দিক ফকির, সোহরাব ফকির, আফসার ফকির, ফজলু ফকির, রহমান খাঁ, রেজাউল খাঁ, জিকির খাঁ ও ওসমান ফকির। রায় ঘোষণার সময় ১১ জন আদালতে হাজির ছিলেন। বাকি দুই আসামি পলাতক বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

এদিকে সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে আদালত থেকে জেলহাজতে নেওয়ার সময় এসআই শাহ আলমের কাছ থেকে আসামি আফসার ফকির পালিয়েছেন।পলাতক রয়েছেন সোহরাব ফকির ও জিকির খাঁ।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী মৃধা জানান, ২০০৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকালে সালথার নটখোলা গ্রামে পিঁয়াজের দানা তোলাকে কেন্দ্র করে একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠক চলাকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে গঞ্জর খাঁ ও মোশা মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই দিনই মোশার ভাই আলাল মোল্লা ২৭ জনের বিরুদ্ধে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সবার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

তিনি আরও জানান, মামলায় দীর্ঘ সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আসামিদের মধ্যে ১৩ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১২ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। বিচারকার্য চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পান। বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- টিটুল খাঁ, ইকরাম খাঁ, হাসেম মোল্লা, আক্কাস ছয়ারি, মিজানুর ফকির, শাহজাহান শেখ, ইদ্রিস খাঁ, হারেজ ফকির, মজনু ফকির, ফারুক মিয়া, মুরাদ মিয়া ও সালাউদ্দিন খাঁ।

আদালত চত্বর থেকে আসামি পালানোর বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি এফ এম নাছিম জানান, আদালত থেকে আসামিদের জেলহাজতে নেওয়ার সময় স্বজনের ভিড় ছিল। অসাবধানতাবশত আসামি আফসার ফকির পালিয়েছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।