কারাগারে অমিতকে খুনের কারণ জানালেন রিপন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০১৯     আপডেট: ১১ জুন ২০১৯      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

অমিত মুহুরী -ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দুর্ধষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার একমাত্র আসামি রিপন নাথ। 

জবানবন্দিতে রিপন নাথ জানান, ৩২ নং সেলের ভেতরে ৬ নম্বর কক্ষে পায়ের কাছে ঘুমোতে বাধ্য করায় রাগের মাথায় অমিতকে ইট দিয়ে আঘাত করে খুন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম(এসিএমএম) মো. মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে রিপন এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকেল তিনটায় রিপনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে আদালত থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে জবানবন্দিতে সেলের মধ্যে ইট কোথা থেকে এসেছে তার বিষয়ে কোন তথ্য দেননি রিপন নাথ। এ খুনের ঘটনা কারো প্ররোচনায় নয়, তিনি রাগের মাথায় একাই খুন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, অমিত মুহুরী হত্যা মামলায় রিপন নাথ রাগের মাথায় ইট দিয়ে অমিতকে আঘাত করে হত্যা করেছেন মর্মে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে অমিত মুহুরীর সঙ্গে ঘুমোনোর জায়গা নিয়ে তার তর্কাতর্কি হয়। অমিত তাকে পায়ের কাছে ঘুমোতে বাধ্য করেন। এতে রাগের মাথায় তিনি অমিতকে ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে মারা যান অমিত।

এর আগে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে রিপন নাথকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রিপন নাথ যেসব তথ্য দিয়েছিলেন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও প্রায় একই তথ্য এসেছে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আজিজ আহমেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছিলেন, সেলে নেওয়ার পর রিপন ও অমিত একসঙ্গে ধূমপান করেছিলেন। অমিত তাকে তুচ্ছ কারণে গালিগালাজ করেন। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি এমনকি জ্বীনের ভয়ও দেখান। এতে অমিতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রিপন।

গত ২৯ মে রাত ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অমিতকে গুরুতর জখম অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। অমিত মুহুরী নিহতের ঘটনায় পরদিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ। মামলায় অমিত যে কক্ষে আহত হয়েছেন ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষের আরেক কয়েদি রিপন নাথকে আসামি করা হয়। রিপন এর আগে নগরীর পাহাড়তলী থানার পুলিশ মারধর ও অস্ত্র মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশ ও আসামি পেটানোর অভিযোগও রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকাননে বন্ধু ইমন, সিআরডি ডাবল মার্ডারসহ ১৬টি নৃশংস খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজির মামলার আসামি অমিত মুহুরী। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর অমিত মুহুরীকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। অমিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী ছিলেন।

বিষয় : চট্টগ্রাম কারাগার অমিত মুহুরী খুন