ওসি মোয়াজ্জেমের বাড়ি ঘিরে 'কড়া দৃষ্টি' রাখছে পুলিশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

যশোর অফিস

ফাইল ছবি

নুসরাত জাহান রাফির ‘ভিডিও ভাইরাল করার’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছেছে তার পৈত্রিক নিবাস যশোরের পুলিশ স্টেশনেও।

তবে ‘নিরুদ্দেশ’ ওসি মোয়াজ্জেমের কোন খবর নেই তার পৈত্রিকবাড়িতে। ওসি মোয়াজ্জেমের মা ও ভাইয়েদের দাবি, তিনি কোথায় জানেন না স্বজনরা। বরং তার অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সবাই।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা যশোরে এসেছে আরও একদিন আগে। ইতিমধ্যে পরোয়ানার কপি জেলার সকল থানাসহ সংশ্লিস্ট অন্যান্য দফতরে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে হাতে পাবার আগেই গণমাধ্যমের কল্যাণে তারা ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর জানতে পারেন। সেসময় থেকেই যশোর পুলিশ এ ব্যাপারে নজরদারি শুরু করে। মোয়াজ্জেমের বাড়ির দিকেও পুলিশের কড়া দৃষ্টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পৈত্রিকবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সোফার এককোণে চুপ করে বসে আছেন তার বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম। ছেলের প্রসঙ্গ টানতেই দু’চোখ দিয়ে পানি ঝরালেন। ‘আমার ছেলের দোষ নেই, ও নিরাপদে ফিরে আসুক’- শুধু এই কথাটি ছাড়া আর কোন মন্তব্য করেননি তিনি।

তবে মোয়াজ্জেমের ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি তার ভাই। আগে নিয়মিত কথা হতো। এখন কোথায় আছেন জানেন না।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যার মূল মামলা বাদ দিয়ে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার ক্রাইম মামলা নিয়ে বেশি তোড়জোড় করা হচ্ছে। অথচ আলোচিত ওই ভিডিওটিই নুসরাতের দেওয়া বড় ডকুমেন্ট। যার ভিত্তিতে তার ভাই অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করেছিল। যার জন্য ভাইকে পুরস্কৃত করা উচিত ছিল।

যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার এই দ্বিতল বাড়িতে মোয়াজ্জেমের স্ত্রী-সন্তান কেউ থাকেন না। এখানে তার মায়ের সঙ্গে বাস করেন ছোট দুই ভাই ও এক বোন। তার অন্য দু’ভাই আমেরিকা ও সৌদি প্রবাসী।

ওসি মোয়াজ্জেমের বাবার নাম খন্দকার আনসার আলী। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রাামে।
বাবার চাকরি সুবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৯৯৭ সালে উপ-পরিদর্শক পদে পুলিশে যোগদান করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১০ সালের দিকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। টানা দেড় বছর সোনাগাজী থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে বিচার প্রত্যাশায় স্থানীয় থানায় গেলে সহযোগিতার বদলে সে ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে তাকে হয়রানি করেন ওসি মোয়াজ্জেম।

তখন তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেননি। বরং নুসরাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে ভাইরাল করা হয়। এতে আসামিরা আরও সাহসী হয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী থানা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুর রেঞ্জে তাকে সংযুক্ত করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ওই আদালত গত ২৬ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে লাপাত্তা হন ওসি মোয়াজ্জেম। পুলিশ এখন বলছে, তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না।

বিষয় : ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যশোর নুসরাত