প্রিপেইড মিটারে দুর্নীতি বন্ধে সংগ্রাম কমিটির কর্মসূচি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

ফাইল ছবি

ওজোপাডিকোর প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের সফটওয়্যার ত্রুটিপূর্ণ। ফলে এই মিটারে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহককে ফ্রি মিটার দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতি মাসে ৪০ টাকা করে কেটে নিচ্ছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির আহ্বায়ক ডা. শেখ বাহারুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিপেইড মিটারের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জুলাই জেলা প্রশাসক এবং ১৭ জুলাই বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, ১৮ জুলাই দুদক চেয়ারম্যানের কাছে বিভাগীয় পরিচালকের মাধ্যমে স্মারকলিপি, ১৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন, আগস্ট মাসজুড়ে ২১ জেলায় মতবিনিময় এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রিপেইড মিটার নামের যন্ত্রদানব খুলনার গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ওজোপাডিকো নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের একপর্যায়ে সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে মেয়র ওজোপাডিকোর এমডিকে সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন; কিন্তু এ পর্যন্ত ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে কোনো বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং টুটপাড়ার এক গ্রাহককে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় সংগ্রাম কমিটি ১২ দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে বিইআরসির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রতিস্থাপন করা প্রিপেইড মিটারের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া, ২শ' কোটি টাকার রিবেট ২ কোটি টাকা তিন বছর আটকে রাখার লভ্যাংশ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া, ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা, অকেজো ডিজিটাল মিটারের মূল্য পরিশোধ করা।

সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন ও মোড়ল নূর মোহাম্মদ, সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, যুগ্ম সদস্য সচিব শাহ মামুনুর রহমান তুহিন, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মফিদুল ইসলাম, ন্যাপ নেতা তপন রায় প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।