তৃতীয়বারের মতো বাচ্চা দিল অজগর

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০১৯      

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আশ্রিত অজগরের ডিম থেকে তৃতীয়বারের মতো ১২টি বাচ্চা ফুটেছে- সমকাল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আশ্রিত অজগরের ডিম থেকে তৃতীয়বারের মতো বাচ্চা ফুটেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এসব ডিম থেকে একে একে বাচ্চাগুলো পৃথিবীর আলো দেখা শুরু করে। এ পর্যন্ত ১২টি বাচ্চা ফুটে বের হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবুবাগান থেকে ১৯৯৯ সালে একটি অজগর উদ্ধার হওয়ার পর তৃতীয় দফায় এবার ডিম থেকে বাচ্চা ফুটায়। গত ৯ জুন রাতে অজগরটি ৩২টি ডিম দেয়। প্রায় দেড় মাস মা অজগরটি ডিমে তা দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাত থেকে এই ডিমগুলো থেকে ছোট ছোট বাচ্চা বেরোতে শুরু করে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, অজগরের আকার ও বয়সের ওপর নির্ভর করে তার ডিমের সংখ্যা। বয়স ও আকার যত বাড়বে, ডিমের সংখ্যাও বাড়বে। এই জাতীয় সাপের ১০৭টি পর্যন্ত ডিম দেওয়ার রেকর্ড আছে। মার্চ থেকে জুনে এরা ডিম দেয়। আমাদের দেশে এই প্রজাতির সাপ চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুন্দরবনে দেখা যায়। পাখি থেকে বড় হরিণ, ছাগল সবই তার খাদ্যতালিকায় আছে বলে তিনি জানান।

সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, এর আগে ওই অজগর প্রথম ২০০৪ সালের মে মাসে ৩২টি ডিম পেড়েছিল। ডিম পাড়ার ৫৯ দিন পর ২৮টি বাচ্চা ফুটেছিল। ২০১১ সালের ১৩ মে ৩৮টি ডিম দেয়। সেবার ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুটেছিল ৩২টি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে ৩২টি ডিম দেয়। এর মধ্যে ১২টি থেকে বাচ্চা ফুটেছে। ১০/১২টি ডিম নষ্ট হতে পারে। আরও কমপক্ষে আটটি ডিম ফুটবে।

সময়মতো সাপগুলোকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অথবা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে।