বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দিলেন সদস্যরা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঈদুল ইসলামের কক্ষে তালা দিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা। বুধবার দুপুরে পরিষদ ভবনে সভার পর তালা লাগানো হয়। তবে চেয়ারম্যান মঈদুল তখন কক্ষে ছিলেন না।

সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিষদের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে মতানৈক্য চলছে। উন্নয়ন প্রকল্প ভাগবণ্টনে সদস্যদের বঞ্চিত করা, চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে পরিষদ পরিচালনা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে জেলা পরিষদ সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

পরিষদের সদস্য মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির অবসান এবং সদস্যদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তারা ১৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান মঈদুল এসবের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি জেলা পরিষদ কার্যালয়েও নিয়মিত আসেন না। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দুপুরে পরিষদ ভবনে সভা করে চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। বুধবারের সভায় পরিষদের ১৯ সদস্যের মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা অনুপস্থিত থাকলেও মোবাইল ফোনে সংহতি জানিয়েছেন বলে অলি জানান।

এর আগে গত ৩০ জুন সদস্যরা সভা বর্জন করায় বরিশাল জেলা পরিষদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন সভা পণ্ড হয়ে যায়। সভার একপর্যায়ে সব সদস্য সভাকক্ষ ত্যাগ করে চলে যান। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আর কোনো সভায় অংশ নেবেন না বলেও এ সময় ঘোষণা দেন তারা।

জেলা পরিষদ সদস্য অলিউল ইসলাম অলি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান মঈদুল ইসলাম গত দুই বছর ধরে খামখেয়ালিপনা করে পরিষদ চালাচ্ছেন। আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব সভায় দেন না। সদস্যরা কোনো উন্নয়ন প্রকল্প দিলে সেটা অনুমোদিত হয় না। ফলে সদস্যরা জেলা পরিষদে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছেন। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছেন না। এ অবস্থা সমাধানের জন্য ১৯ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- চার ভাগ হারে সদস্যদের উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া, গত অর্থবছরে চেয়ারম্যান সদস্যদের অগোচরে ২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, সেটার সমন্বয়ের জন্য নতুন অর্থবছরে সদস্যদের জন্য সমপরিমাণ অর্থের প্রকল্প দেওয়া, সিপিপিসির প্রথম কিস্তি তিন কর্মদিবসে ও শেষ কিস্তি সাত কর্মদিবসের মধ্যে চেক প্রদান, চেয়ারম্যান তিন কর্মদিবস অনুপস্থিত থাকলে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদান ও সাত কর্মদিবস অনুপস্থিত থাকলে আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তর, জেলা পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ও তহবিলের পরিমাণ প্রকাশ করা।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঈদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।