নুসরাত হত্যা: পোড়া শরীরের বর্ণনা দিলেন চিকিৎসক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পেট, বুকের একাংশ, পিঠ এবং দুই হাত ও দুই পা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসা দিয়ে নুসরাতকে যখন ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। 

নুসরাতকে চিকিৎসা দেওয়া ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু তাহের ও সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের মেডিকেল অফিসার আরমান বিন আবদুল্লাহ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা জানান। 

মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য দেন তারা। নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই চিকিৎসকের সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন বিচারক। 

আদালতকে ডা. আবু তাহের জানান, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে সোনাগাজী হাসপাতাল থেকে নুসরাতকে ফেনী সদর হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় তার শরীরের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পোড়া অবস্থায় ছিল। গলা, পেট, পিঠ, দুই হাত ও দুই পা ঝলসানো ছিল। সঙ্গে সঙ্গে নুসরাতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আদালতে এ সময় বাদী ও আসামি পক্ষের প্রায় ৩০ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজন না থাকায় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষী দুই চিকিৎসককে জেরা থেকে বিরত থাকেন।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বিচারককে জানান, সোমবার নুসরাতের বাবা এ কে এম মুছা তার জবানবন্দিতে যেসব আসামির নাম উল্লেখ করেননি, তাদের নাম জুড়ে দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পত্রিকাটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আইনজীবী এ ব্যাপারে পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলে জানান। অন্য একটি পত্রিকায় নাম উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন নান্নু আদালতকে বলেন, পত্রিকাটি আদালতে আইনজীবী বিপাকে ও বিচারক তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে। এ সময় বিচারক মামুনুর রশিদ বলেন, আদালত সুষ্ঠুভাবে চলছে। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের প্রশ্নই ওঠে না, কারণও ঘটেনি। বিচারকাজে বিঘ্ন ঘটে এমন মন্তব্য থেকে সংবাদপত্রগুলোকে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেন আদালত।

পরে আদালত বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন ও শরীফ উদ্দিন আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। আদালত একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য হস্তলিপি বিশারদ, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি বিশারদসহ মোট ৯ জনকে সাক্ষ্য দিতে হাজির থাকার আদেশ দেন। আগামী রোববার ম্যাজিস্ট্রেটদের জবানবন্দির ওপর জেরা গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০ জুন থেকে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৬৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

বিষয় : নুসরাত ফেনী