চোখের সামনে মা-ভাইকে খুন, নিপাকে দেখার কেউ রইল না

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

নাজমার লাশ দেখতে আশপাশের মানুষের ভির -সমকাল

'চোখের সামনেই মা ও ছোট ভাইকে কুপিয়ে মেরেছে প্রতিবেশি মোখলেছ। প্রথমে ছোট ভাই হানিফকে কুপিয়ে মারে। ভাইকে বাঁচাতে গেলে মাকেও কুপিয়ে মারে।' 

এভাবে মা-ভাই খুনের ঘটনা বলতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ক্যান্সারে বাবাকে হারানো অসহায় নিপা। কুমিল্লার দেবিদ্বারে বুধবার উন্মত্ত ঘাতক মোখলেছের ধারালো দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন নিপার মা আনোয়ারা বেগম আনু (৪০) ও ১২ বছরের ছোট ভাই হানিফ মুন্সিসহ চারজন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয় মাদকাসক্ত রিকশাচালক মোখলেছ। দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

মোখলেছ ওই গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে। তার হাতে নিহত অন্য দু'জন হলেন একই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬) ও তার মা মাজেদা বেগম (৫৫)।

রাধানগর গ্রামে নিপাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা- ভাইকে হারিয়ে গগনবিদারী আর্তনাদ করতে করতে একপর্যায়ে মূর্ছা যাচ্ছেন নিপা আক্তার। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। মূর্ছা ভাঙলে ঘরে থাকা মা ও ভাইয়ের পরনের কাপড়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। একটু পরপর চিৎকার করে বলছেন, আপনারা আমার মা ও ভাইকে ফিরিয়ে দিন, আমাদের তো দেখার আর কেউ রইল না।

মাসখানেক আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান নিপার বাবা শাহ আলম। এরপর থেকে অবিবাহিত এক মেয়ে নিপা এবং ছোট দুই ছেলে হানিফ ও আলমকে নিয়ে কোনো রকমে দিন চলছিল আনোয়ারা বেগমের। বিল থেকে মাছ ধরে চালাচ্ছিলেন সংসার। কিন্তু এখন ঘাতকের কোপে তাকেও চলে যেতে হলো।

নিহত আনোয়ারার স্বজনরা জানান, তিন মেয়ে বিয়ে দিলেও ছোট মেয়ে নিপার এখনও বিয়ে দেওয়া বাকি। আনোয়ারার বাড়ির ভিটে-মাটি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই। এখন মেয়ে নিপার কী হবে, কে দেখবে তাকে?

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন: মা-ছেলেসহ প্রকাশ্যে চারজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় রাধানগর গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স থেকে ১৬ পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতদের স্বজনকে সান্ত্বনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।