দাঁড়িয়ে দেখলেন সবাই, এগিয়ে গেলেন শুধু কনস্টেবল শামসুল

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

শামসুল আলম

চট্টগ্রামে আগুনে ঝলসে যাওয়া এক ব্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে এলেন পুলিশ কনস্টেবল মো. শামসুল আলম। এ সময় উৎসুক জনতা দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ তার দিকে সহায়তার হাত বাড়াননি।

বুধবার নগরের বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেকের একটি ক্যাফেতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ মো. মানিক মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার পশ্চিম সাবরহাটি গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। ক্যাফেটিতে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করে মানিক।

কনস্টেবল শামসুল আকবর শাহ থানাধীন ফয়’স লেক তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত। মানিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাফের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ আগুনে ঝলসে যান মানিক মিয়া। এ সময় যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভিড় করলেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে এগিয়ে আসেননি কেউ। ভিড়ের এমন জটলা চোখে পড়ে কনস্টেবল মো. শামসুল আলমের। কাতরাতে দেখে দ্রুত রিকশা থেকে নেমে একটি সিএনজিতে আহত মানিককে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তিনি; ভর্তি করান হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিটে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনে মো. মানিক মিয়ার শরীরের ৭০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

মানিক মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল মো. শামসুল আলম বলেন, ক্যাফের রান্নাঘরে ঢুকে ম্যাচের কাঠি জ্বালাতেই আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা মানিকের শরীরে এক পর্যায়ে আগুন লেগে যায়।

তিনি বলেন, রিকশায় বাজারে যাওয়ার সময় অনেক মানুষের জটলা দেখে আমি নেমে পড়ি। পরে দেখি একজন লোক আগুনে ঝলসে গিয়ে ছটফট করছেন। গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি তাকে। প্রাথমিক ওষুধপত্রসহ যাবতীয় জিনিসপত্র কিনে দিয়েছি। পরে তার পরিবার ও ক্যাফের মালিকের কাছে খবর দিই।

কনস্টেবল শামসুল বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিক মিয়াকে ঢাকায় পাঠানো হবে। ক্যাফেতে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস ছিদ্র হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয় : চট্টগ্রামে আগুন কনস্টেবল