হালদার পোনায় ভরবে হালদা

অবমুক্ত করা হবে এক লাখ রুই কাতলা ও মৃগেলের পোনা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম ও মোহাম্মদ আলী, হাটহাজারী

হালদা থেকে সংগ্রহ করা রেণুতে মডেল পুকুরে উৎপন্ন এসব পোনা আবার ছাড়া হবে হালদা নদীতেই - সমকাল

অনেক বছর ধরে হালদা নদীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে ক্রয় করে কার্পজাতীয় মাছ ছাড়া হতো, যে কারণে এসব মাছ থেকে পাওয়া যেত না আশানুরূপ ফল। এবার প্রথমবারের মতো হালদা নদীর পোনা প্রক্রিয়া করে তা ফের হালদায় ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর কার্পজাতীয় মা মাছের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হালদার মা মাছের ডিম থেকে ফোটানো রুই, কাতলা ও মৃগেলের প্রায় এক লাখ পোনা সেখানেই ছাড়া হবে। এরই মধ্যে নদীসংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের জোড়া পুকুরপাড়ের একটি মডেল পুকুরে পোনার আবাসস্থল তৈরি করে নিবিড় পরিচর্যা করা হচ্ছে। প্রতিটি মাছের আকার ৬ ইঞ্চি বা তার বেশি হলে তা হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হবে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন গত ৩০ এপ্রিল একটি প্রকল্প নেন। মা মাছের ডিম থেকে ফোটানো পোনা বড় করার জন্য গড়দুয়ারা ইউনিয়নের জোড় পাড়ে একটি মডেল পুকুর নির্বাচন করা হয়। গত ২৫ মে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়লে স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা সেগুলো সংগ্রহ করে হ্যাচারি ও মাটির তৈরি কুয়ায় পোনা উৎপাদন করেন। ভেজাল ঠেকাতে ইউএনও নিজে ৬৫ হাজার টাকায় এক কেজি পোনা কিনে মডেল পুকুরে অবমুক্ত করেন।

পুকুরটি নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে পুকুরে তিনবার জাল দিয়ে মাছের স্বাস্থ্য ও আকার পরীক্ষা করা হয়েছে। পুকুরে পোনাগুলো কমপক্ষে ৯০ দিন রাখা হবে। এরই মধ্যে পোনা ফেলার সময় ৮০ দিন পার হয়েছে। পোনার আকারও হয়েছে আশানুরূপ। শিগগির নদীতে এসব পোনা অবমুক্ত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদা নদীর পোনা যথেষ্ট মানসম্পন্ন। প্রশাসনের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হালদায় মা মাছ বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রাখবে। আর উন্নতমানের মা মাছ বাড়লে ডিমের পরিমাণও বাড়বে, যা দেশের মৎস্য সম্পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে ইউএনও রুহুল আমিন সমকালকে বলেন, প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর পোনা হালদায় ফেলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নিই। লোক রেখে মাছের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও খাবার দেওয়া হচ্ছে, যে কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে পোনা কাঙ্ক্ষিত আকার নিয়েছে। মডেল পুকুরে বেড়ে ওঠা বেশ কিছু পোনা নদীতে ছাড়ার উপযোগী হয়েছে। শিগগির পোনাগুলো হালদায় অবমুক্ত করা হবে।

হালদা বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়। মডেল পুকুরে বেড়ে ওঠা হালদার মাছগুলোর স্বাস্থ্য ও আকার পরীক্ষা করে দেখেছি। এখানে প্রায় ৭০ শতাংশ কাতলা, ১৫ শতাংশ রুই ও ১৫ শতাংশ মৃগেল মাছের পোনা রয়েছে। প্রতিটি মাছ গড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের। কিছু কিছু মাছের আকার সাড়ে ৬ ইঞ্চি অতিক্রম করেছে। সাধারণত ৬ ইঞ্চি বা তার বেশি আকারের মাছ হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হলে নদীর পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তা সহজে বড় হয়ে উঠতে পারবে।

হালদাপাড়ের ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর বলেন, উপজেলা প্রশাসন মা মাছের মজুদ বৃদ্ধিতে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অনন্য। এর মাধ্যমে আগামীতে হালদা নদীতে মা মাছের পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে ডিমের পরিমাণও।

ডিম সংগ্রহকারী আশু বড়ূয়া বলেন, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে নদী থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাছ নিধন চলছে। এসব কারণে হালদায় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এবার পোনা অবমুক্ত করা হলে ফিরে আসবে হালদার অতীত ঐতিহ্য।