বগুড়া পুলিশের অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৯      

বগুড়া ব্যুরো

উদ্ধারকৃত বিরল রঙের ইয়াবা- সমকাল

বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ঢাকার মিরপুর থেকে বিরল রঙের ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে পুলিশ জানায়।

শনিবার রাতে মিরপুর-১ নম্বর রোডের মধ্যপাইকপাড়া এলাকায় পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফয়েজ উদ্দিন নামে এক কিশোরকে পুলিশ আটক করে। এটিই এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় মাদকের চালান উদ্ধারের ঘটনা বলে দাবি করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট গনকীরপাড়া এলাকার নিপা বেগম (২০) ও তার স্বামী ফারুক মিয়া (২৫), কক্সবাজার সদরের ওমর ফারুক (২৪) এবং সায়েম (২৩) কে আটক করা হয়। এদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে ঢাকার মিরপুরে একটি ভাড়া বাসায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ রয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল ফারুক দম্পতির মিরপুরের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি রুমে কালো রঙের স্কুল ব্যাগ থেকে আটটি প্যাকেটে মোট ত্রিশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় ওই বাসা থেকে ফয়েজ উদ্দিন নামে তাদের এক সহযোগীকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরাও জানায়, আটটি প্যাকেটের মধ্যে সাতটিতে ৪ হাজার পিস করে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা ও একটিতে ২ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। কক্সবাজার থেকে আটকৃত অপর দুই সহযোগী ওমর ফারুক ও সায়েম এর মাধ্যমে ইয়াবার বড় চালান ঢাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের নিকট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। আটকৃত কিশোর ফয়েজ উদ্দিন ফারুক দম্পতির সন্তান হিসেবে তাদের সঙ্গে বসবাস করতো।

ডিবি পুলিশের ওসি আছলাম আলী সমকালকে বলেন, 'আটককৃত ফারুকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঢাকা থেকে বিরল রঙের এই ইয়াবাগুলো উদ্ধার করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের জানামতে ফারুক এই ব্যবসার গড ফাদার। তবে তাদের আদালতের মাধ্যমে আবারও রিমান্ড আবেদন করে অধিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী জানান, এই পর্যন্ত আমাদের উত্তরবঙ্গে মাদকের ঘটনায় এটি সবচেয়ে বড় চালান উদ্ধার। এতো বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনা ইতিপূর্বে উত্তরবঙ্গে ঘটেনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, 'এদের পেছনে আরও বড় কেউ আছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'