পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নামে চাঁদা দাবি

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষকদের হত্যার গণহুমকি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০১৯      

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের আগামী সাত দিনের মধ্যে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতারা নিজেদের পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সেকেন্ড ইন কমান্ড 'বিপ্লব' ও কমান্ডার ইন চিফ পরিচয় দিয়ে শুক্রবার সকাল ৯টায় পর্যায়ক্রমে দুটি নম্বর থেকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মোবাইলে কল করে কারও কারও কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করে। 

এ ঘটনায় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সব শিক্ষকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহাম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক এবং ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকীর কাছে পৃথক পৃথকভাবে অভিযোগ করেছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিরুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামাল হোসেন শাহ, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফ হাসান, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক অসীম কুমার পালসহ অন্য শিক্ষকদের গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পর্যায়ক্রমে দুটি নম্বর থেকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিরুল হককে একই নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সব শিক্ষকের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তারা।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক বলেন, এরই মধ্যে ট্র্যাকিং করে ০১৯৩৪৫০২৯০৪ নম্বরের মোবাইলটি ঢাকায় অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে। ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম জানান, সরকারি কলেজের সব শিক্ষককে এভাবে হত্যার হুমকিতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আশপাশের কয়েকটি সরকারি কলেজে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপরাপর কলেজগুলোতেও একইভাবে এসব নম্বর থেকে শিক্ষকদের ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা বলেন, সম্প্রতি 'পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে' ও 'ছেলেধরা গুজবের' মতো এটিও একটি পরিকল্পিত ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।