যশোরে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সঙ্কট, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

যশোর অফিস

সিট খালি না থাকায় ওয়ার্ডের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা- সমকাল

যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই তুলনায় যশোরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটসের সঙ্কট প্রকট। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বরাদ্দ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস পৌছেনি এ জেলায়। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা কিট দিয়েই চলছে এখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা।

গত ১৫ দিনে যশোরে ১৮৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮ জন। এছাড়া আরও ১২ জন ভর্তি রয়েছেন স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন এসব রোগীদের ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন গত চব্বিশ ঘন্টায়। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত নড়াইলের একজন নারী যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটসের সঙ্কটের কথা স্বীকার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু সমকালকে জানান, হাসপাতালে কিট না থাকায় শুরুতে মেডিকেল কলেজ থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হচ্ছিলো। পরে বিএমএ’র পক্ষ থেকে তাদেরকে একশ’ কিটস দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও নিজস্ব ফান্ডেও কিছু উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব দিয়েই আপাতত চিকিৎসা চলছে। ডেঙ্গু রোগীদের রক্তসহ সব ধরণের পরীক্ষা করানো হচ্ছে বিনামূল্যে। সরকারিভাবে বরাদ্দ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস দু’একদিনের মধ্যে যশোর পৌছাবে বলে তিনি জানান।

ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, 'একাধিক ওয়ার্ডে থাকলেও রোগীদের রাখা হচ্ছে মশারির মধ্যে। চিকিৎসক-সেকিবা সকলেই খুবই আন্তরিক। এছাড়া হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে খোলা হয়েছে পৃথক সেল। এই সেল সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।'

সরেজমিনে ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, এ হাসপাতালের এক-তৃতীয়াংশজুড়ে থাকা ডেঙ্গু রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। বিশেষ করে একটি ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় রোগীদের জায়গা সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাইফুল ইসলাম নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলেও রোগীর চাপে তারা ঠিকমত দেখভাল করতে পারছেন না। কয়েকবার ডাকার পর মিলছে সেবিকাদের সাড়া।

তবে এ ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক আশরাফুন নাহার অনন্যা বলেন, 'রোগী বা স্বজনদের ডাকা লাগছে না। সেবিকারাই সবসময় রোগীদের তদারকি করছেন। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিৎ ডাকা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও।'

যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ইমদাদুল হক রাজু সমকালকে বলেন, 'ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনটি মনিটরিং টিম গঠন এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কারণে জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।'

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদারকি করার নির্দেশ দিলেও যশোরের কোন সংসদ সদস্য এ বাপারে কোন খোঁজখবর নেননি। শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার শুক্রবার হাসপাতাল এলাকায় মশক নির্ধন এবং পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন। এসময় তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিট কিনে দেয়ার আশ্বাস দেন।