নাগরপুরে আ'লীগ নেতাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।

বুধবার দুপুরে উপজেলার সলিমাবাদ তেবাড়িয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম অপু, আওয়ামী লীগ নেতা রতন ভূঁইয়া, সুমন খান, মাহমুদুল হক ও সোলায়মান হোসেন বিপ্লব।

এলাকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় শাহীদুল ইসলাম অপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে শাহীদুল ইসলাম অপুর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আজাহারুল ইসলাম মন্টুর দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। মন্টু ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে তার দলবল নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। পরে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যান। ওই নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মন্টুর স্ত্রীর বড় ভাই মারা যান। এ ঘটনায় শাহীদুল ইসলাম অপুসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এর পর থেকেই তাদের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব চলছিল।

বুধবার তেবাড়িয়া স্কুল মাঠে সলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনের কথা ছিল। শাহীদুল ইসলাম অপু নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। অপু স্কুলগেটের সামনে পৌঁছলে আজহারুল ইসলাম মন্টু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অপু ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। সন্ত্রাসীরা এ সময় অপুসহ পাঁচজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অপুর মাথায়, ঘাড়ে, পিঠে ও পায়ে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। হামলার পর সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র উঁচিয়ে তেবাড়িয়া বাজারে মহড়া দিলে জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত জনতা দিজ্ঞ্বিদিক ছোটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তেবাড়িয়া বাজারের সব দোকানপাট। ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শাহীদুল ইসলাম অপুর মামাতো ভাই রায়হান খান বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে। এর আগেও অপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে অনেকবার সাবেক চেয়ারম্যান মন্টু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করেছে। পূর্বশত্রুতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হামলা করা হয়েছে।

নাগরপুর থানার ওসি আলমচাঁদ জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।